Heath Scam

মেডিকেল অফিসার থেকে হয়েছিলেন সহকারী অধ‍্যাপক! মমতা ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকের মেয়ের ‘ডিমোশন’, বিজ্ঞপ্তি জারি করল স্বাস্থ্য দফতর

স্বাস্থ‍্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “এক কথায় রিয়াল দাসকে তাঁর ‘রিয়েল স্থান’-এ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এতদিন তিনি যে দফতরের চাকরি করেছেন, অর্থাৎ সহকারী অধ্যাপক হিসাবে, সেই ডিগ্রী ও তাঁর নেই। কাজেই তাঁকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে।”

(বাঁ দিক থেকে) রিয়াল দাস এবং এস পি দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ১২:৩০

মেডিকেল অফিসার থেকে সরাসরি অধ্যাপক! তার জন‍্য আলাদা করে নতুন পদও সৃষ্টি করা হয়। হয়েছিলেন বিভাগীয় প্রধানও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘনিষ্ঠ’ চিকিৎসক এস পি দাসের মেয়ের নিম্নপদে অবনমনে সিলমোহর দিল স্বাস্থ্য দফতর। তৃণমূল জমানার স্বাস্থ্য দফতরে আরেক 'দুর্নীতি' সামনে আসতেই পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দফতর। 

তৃণমূল জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন চিকিৎসক এস পি দাস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা। সেখানে প্রচারে সময় আহত হন তৃণমূল নেত্রী। চিকিৎসক মহলের দাবি, তখন এই এসপি দাসই মমতার পায়ে ব্যান্ডেড বেঁধে দিয়েছিলেন। এস পি দাস প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর মেয়ে রিয়াল দাসও পেশায় চিকিৎসক।

সূত্রের খবর, রিয়াল দাস বিহারের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছিলেন। রিয়াল ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ সার্ভিসেস ক্যাডারে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, চিকিৎসক রিয়ালের যোগ্যতার উর্ধ্বে গিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল এডুকেশন ক্যাডারে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ করা হয়। তা-ও আবার  এসএসকেএমের মনোরোগ বিভাগে। এমনকী, তাঁকে সেখানে নিয়োগের আগে নতুন পদ তৈরি করা হয়। রিয়াল ওই বিভাগে একজনই সহকারী অধ‍্যাপক ছিলেন। আর কোনও চিকিৎসকই ছিল না। 

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যে পালাবদলের পর চিকিৎসক রিয়াল দাসকে পুরনো পদে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। শুধু তাই নয়, সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত থাকার সময় যে অতিরিক্ত বেতন ও ভাতা তিনি পেয়েছেন, সেই অর্থ সরকারি নিয়ম মেনে তাঁর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এখন থেকে চিকিৎসক রিয়াল দাস মেডিকেল অফিসার পদের জন্য বরাদ্দ বেতনই পাবেন বলেও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। 

এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসক মহলের এ-ও দাবি, রিয়াল দাসকে যখন সহকারী অধ্যাপর পদে নিয়োগ করা হয়, তখন ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ সার্ভিসেসের এসডি ছিলেন তমালকান্তি ঘোষ। অভিযোগ, তিনি সেই সময় ফাইলে সই করতে রাজি হননি। ‘অবাধ‍্য’ হওয়ায় পদ থেকে সরিয়ে তমালকান্তিকে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

মমতা ‘ঘনিষ্ঠ’ চিকিৎসক এস পি দাসের মেয়ে রিয়াল দাস নিয়ে রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব‍্য, তিনি যে স্থানের জন্য যোগ্য তাঁকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এক কথায় রিয়াল দাসকে তাঁর ‘রিয়েল স্থান’-এ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এতদিন তিনি যে দফতরের চাকরি করেছেন, অর্থাৎ সহকারী অধ্যাপক হিসাবে, সেই ডিগ্রী ও তাঁর নেই। কাজেই তাঁকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে। তিনি মূলত অন্যায় ভাবে পদে ছিলেন। তিনি বাবার ডিগ্রী দ্বারা অলঙ্কিত হয়েছিলেন।" 


Share