Middle East Conflict

হরমুজে জাহাজে হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ! ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারিতে ফের জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য

তাদের বক্তব্য, কুয়েতের আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরিনের সলমন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, হামলা প্রতিহত করতে আসা একটি আমেরিকান ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৬:১৯

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তির ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্র আর কার্যকর বলে তিনি মনে করেন না। ফলে ইরান-আমেরিকার চলমান যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে ফের পূর্ণমাত্রার সংঘাতের পথে হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার থেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা নতুন করে পশ্চিম এশিয়াকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। আমেরিকার দাবি, ওই হামলার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে একটি ভারতমুখী ছিল বলেও জানা গিয়েছে। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার ভোরে ইরানের একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে আসে। এর পাল্টা জবাবে ইরানের এলিট বাহিনী আইআরজিসি বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, কুয়েতের আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরিনের সলমন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, হামলা প্রতিহত করতে আসা একটি আমেরিকান ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই বাহরিন ও কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কুয়েত। সে দেশের সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ কার্যত শেষ। একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘নিকৃষ্ট’ ও ‘অসুস্থ’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন। তিনি বলেন, "ওরা হিংস্র। ওদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ওরা তা ব্যবহার করত।’’ এর জেরে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনাও অনিশ্চয়তার মুখে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ‘সময়ের অপচয়’। কারণ, তাঁর বিশ্বাস, অবাস্তব মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে কোনও ফল মেলে না।

হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকার বাহিনী। বুধবারের এই অভিযানের কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়ে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানই দায়ী। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানো শুরু হয়েছে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের দাবি, পাল্টা অভিযানে ইরানের ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকা-সহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এ দিকে, ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানিতে যে সাময়িক ছাড় দিয়েছিল আমেরিকা, সেটিও প্রত্যাহার করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরের পর আমেরিকার অর্থ দফতর একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছিল, যার মাধ্যমে ২১ অগস্ট পর্যন্ত ইরানকে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এর পরই ট্রাম্প সংঘর্ষবিরতি কার্যত শেষ বলে ঘোষণা করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।


Share