Baruipur Incident

বারুইপুর এনকাউন্টারে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর তদন্তে করবে সিআইডি, চলবে বিচারবিভাগীয় তদন্ত

মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হন। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি এ বার পুলিশি তদন্তও করবে সিআইডি।

অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৩

বারুইপুরে পুলিশি এনকাউন্টারে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হন। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি এ বার পুলিশি তদন্তও করবে সিআইডি।

নিয়ম অনুযায়ী, যে পুলিশ জেলার অভিযানে এনকাউন্টার হয়েছে, সেই জেলা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। তাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বারুইপুর পুলিশ জেলার পরিবর্তে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে। বিধি অনুসারে, প্রতিটি পুলিশি এনকাউন্টারের ক্ষেত্রেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সিআইডির তদন্তের পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তও সমান্তরালভাবে চলবে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে, প্রায় পৌনে একটা নাগাদ অভিযুক্ত প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। ঘটনার পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যেই তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় অভিযুক্তের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কলের (পিসি) ইনচার্জ রনি সরকার। অভিযোগ, আচমকাই তাঁর কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। পুলিশকর্মীরা ধাওয়া করলে তাঁদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালান তিনি।

পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল তাঁর সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি চালান। ওই গুলিতে প্রভাস আহত হন। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর শরীরে দু’টি গুলি লাগে একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের উপরের অংশে।

বারুইপুরে গভীর রাতে পুলিশের এনকাউন্টারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই ঘটনার সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে অতীতে ঘটে যাওয়া একাধিক পুলিশি এনকাউন্টারের তুলনা টেনে সরকারকে নিশানা করেছে। তাদের দাবি, রাজ্যে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অন্য দিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল পুলিশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস এবং সিপিএমও।

এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার গভীর রাতের ওই ঘটনার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এনকাউন্টারের সময় কী পরিস্থিতিতে কী ঘটেছিল, পুলিশের ভূমিকা এবং গোটা ঘটনার ক্রমপর্যায় খতিয়ে দেখবেন সিআইডির আধিকারীকেরা।


Share