Middle East Conflict

হরমুজ প্রণালীতে হামলার জেরে ফের অশান্ত মধ‍্যপ্রাচ‍্য! ইরানে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানের পদক্ষেপ ছিল ‘অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’। তাই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১১:২৩

পশ্চিম এশিয়ায় ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আগেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই হুঁশিয়ারির পর বুধবার গভীর রাতে ইরানের একাধিক এলাকায় নতুন করে হামলা চালায় আমেরিকার বাহিনী। হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইরানের সংবাদসংস্থার দাবি, দেশটির দক্ষিণ উপসাগরীয় উপকূলের বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার জবাবে বন্দর আব্বাস সংলগ্ন অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরানের সেনাবাহিনী। পাশাপাশি কোনারাক ও চাবাহার এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তার স্বার্থে চাবাহারের কয়েকটি অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকার বাহিনী। পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানের পদক্ষেপ ছিল ‘অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’। তাই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড।

বুধবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধবিরতির ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়ে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের কথা জানান। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি দাবি করেন, নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও, অন্য দিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। বুধবার ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা সম্ভবত আজ রাতে ইরানের উপর বড় ধরনের আঘাত হানবে।” যদিও তাঁর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, “সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলায় দীর্ঘমেয়াদী কোনও রূপ নেবে না।” ট্রাম্পের আরও সংযোজন, “যা কিছু ঘটবে, খুব দ্রুত ঘটবে।” যদিও তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আমেরিকার সামরিক বাহিনী হয়তো তাদের কাজটি একেবারে শেষ করে দিতে পারে।

হরমুজ় প্রণালীতে মঙ্গলবার তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ফের চরমে উঠেছে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই হামলার নেপথ্যে রয়েছে তেহরান। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে একটি ছিল ভারতমুখী বলেও দাবি করেছে আমেরিকা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার ভোরে (স্থানীয় সময়) ইরানের একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে আসে। পাল্টা জবাবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, প্রয়োজনে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সমুদ্রের জল পরিশোধনাগার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’কেও নিশানা করা হতে পারে।

তুরস্কের আঙ্কারায় নেটোর সম্মেলনের মাঝে ট্রাম্প বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলাগুলি চালানো হচ্ছে। গত রাতে ওদের কড়া আঘাত করেছি। খুব খুব কঠিন। আজ সম্ভবত আবার ওদের উপরে জোরদার হানা হবে। আমি ওদের ছোট্ট হুঁশিয়ারি দেব, আজ রাতে ওদের কঠিন আঘাত করতে চলেছি।’’ ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়ছে ইরান। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা খুব খারাপ আচরণ করছে।’’

ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রণালীর সামুদ্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদেরই রয়েছে। যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনায় অন্যতম প্রধান মুখ এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে বলেন, “দাদাগিরি ও তোলাবাজির যুগ শেষ। এতে কোনও লাভ হবে না। আমরা মাথা নত করব না।”

এ দিকে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারী কাতারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে ইরান জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা জরুরি। তেহরানের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।


Share