Middle East Conflict

হরমুজ প্রণালীতে হামলার জেরে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

তাঁর এই কড়া বার্তার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের ক্রুড তেলের দামই ছ'শতাংশের বেশি বেড়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১১:৫২

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টা হামলার আবহে বুধবার ফের ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই কড়া বার্তার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের ক্রুড তেলের দামই ছ'শতাংশের বেশি বেড়েছে।

অভিযোগ, সোমবার গভীর রাত থেকে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি অসামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। এই ঘটনার জেরেই বুধবার ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৮.৮০ ডলারে পৌঁছোয়। একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই অনিশ্চয়তার প্রভাবেই অশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় নেটোর শীর্ষবৈঠকে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “ওদের সঙ্গে আর সময় নষ্ট করার কোনও অর্থ নেই।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি উঠে গিয়েছিল। তবে গত ১৭ জুন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায় এবং তা যুদ্ধ শুরুর আগের স্তরের কাছাকাছি নেমে আসে। কিন্তু এ বার যুদ্ধবিরতির সমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের উপর থেকে তেল রফতানির নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করার পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ৬০ দিন পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে কোনও ফি দিতে হবে না। কিন্তু সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল তাদের নিয়ন্ত্রণেই হবে এবং ওই জলপথ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। তেহরানের এই অবস্থান দীর্ঘদিনের প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ দিকে, মঙ্গলবার যেসব বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি ইরানের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে ওমান উপকূল সংলগ্ন একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির উপরও পড়তে পারে।


Share