BJP

‘ভালো তৃণমূল’ সুখেন্দু, সুস্মিতা এবং প্রকাশ, রাজ‍্য সভাপতির হাত থেকে পতাকা তুলে বিজেপি যোগ দিলেন তিনজন প্রাক্তন সাংসদ

তবে তৃণমূল থেকে এই যোগদানকে ‘ব‍্যাতিক্রমী ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “তৃণমূলে থেকে যাঁরা দুর্নীতি করেননি, তাঁদের আগেই বিজেপি পাশে চেয়েছে।”

বিজেপিতে যোগ দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩০

বিজেপিতে যোগ দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। তিনজনই তৃণমূলের টিকিটে রাজ‍্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। ভোটে ভরাডুবির তিনজনই একে একে রাজ‍্যসভার পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁদেরকেই বিজেপির পতাকা হাতে তুলে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে তৃণমূল থেকে এই যোগদানকে ‘ব‍্যাতিক্রমী ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “তৃণমূলে থেকে যাঁরা দুর্নীতি করেননি, তাঁদের আগেই বিজেপি পাশে চেয়েছে।”

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসেছিলেন। ওই দিন তাঁর সঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায় সাক্ষাৎ করেন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুখেন্দুশেখরের প্রয়াত পিতা শিবেন্দুশেখর রায়কে স্মরণ করেছিলেন। তার পরেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সুখেন্দু রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ পদ, তৃণমূলের সদস্যপদ। এমন ঘটনাক্রম থেকে কার্যত স্পষ্ট হয়েছিল সুখেন্দুশেখর এ বার বিজেপিতেই যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিলেন।

রাজ‍্যসভার নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। তাহলে কি এ বার সুখেন্দুশেখর-সহ তিন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে বিজেপি টিকিটে রাজ‍্যসভায় যাচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে শমীক ভট্টাচার্য কিছু জানায় নি। জল্পনা নিয়ে বলেন ‘চর্চা চলুক না।’

বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দলে জায়গা দেওয়া হবে না। পরে শমীক ভট্টাচার্যই জানান, ‘ভালো তৃণমূলের জন‍্য দরজা খোলা।’ যদিও তিনিই এমন কোনও মন্তব্য করেননি বলেও জানান। তবে ‘চুরি’ না করা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জন‍্য দলের দরজা খোলা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে জানিয়েছিলেন।

সুখেন্দু, সুস্মিতা, প্রকাশ বিজেপিতে যোগদানের পরেই শমীকের মুখে সেই পুরনো তত্ত্ব শোনা গেল। রাজ‍্য বিজেপির বলেন, “তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জন‍্য দরজা বন্ধ, সে কথা আগে বলেছিলাম, এখনও বলছি। আজকের যোগদান ব‍্যতিক্রমী ঘটনা, কোনও বিচ‍্যুতি নয়।” তার পরেই তিনি বলেন, “তৃণমূলের যাঁরা দুর্নীতি করেননি, মানুষের উপরে অত‍্যাচার করেননি, চাকরি বিক্রি করেননি, মানুষের অধিকার কেড়ে নেননি, তাঁদের কাছে আমাদের আহ্বান ছিল, আপনারা এগিয়ে আসুন, তৃণমূলকে সরিয়ে দিন। তাঁরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।” শমীক এখানেই থামেননি। তিনি আরও বলেন, “সে রকম যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের তো আমরা আগেই পাশে চেয়েছিলাম। সুতরাং তাঁদেরকে দলে স্বাগত জানানোর মধ্যে কোনও সমস্যা নেই।”

বিপুল ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূল থেকে যাতে কেউ রাতারাতি দলে ঢুকতে না-পারে, সেই জন্য বিজেপি তিন সদস্যের কমিটি গড়ে। কোনও নেতা কাউকে দলে নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। সেই আবহে শমীকের ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রকাশ্যেই ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার পরেই শমীক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, “ভাল তৃণমূল বলে কিছু হয় না! কখনও এই কথা বলিনি। ভোটের আগে থেকে বলছি, যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে অমৃতরস পানের সুযোগ পাননি, চুরি করেননি, তাঁদের জন্য দরজা খোলার কথা ভাবা যেতে পারে। সেটা এখন না, পরে। কখন দরজা খুলতে হবে, তা নিয়ে দলের মধ্যে ভাবনাচিন্তা করা হবে।” বৃহস্পতিবার সুখেন্দুদের যোগদানের পরে শমীকের গলায় সেই সুরই শোনা গেল। তিনি জানান, যাঁরা তৃণমূলে থেকে দুর্নীতি করেননি, তাঁদের আগেই পাশে চাওয়া হয়েছে।


Share