Abhishek Banarjee

‘সব কিছুর একটা সীমা থাকে,’ ডিজে মন্তব্য মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে ভর্ৎসিত অভিষেক, সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি বিচারপতির

তাই আলাদা করে কন্ঠস্বর নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর এ-ও যুক্তি, তিনি আদালতে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হতে পারে। গত বুধবার অভিষেকের আদালতে যাওয়ার কথা ছিল। দু’ঘন্টা ধরে সিআইডির আধিকারিকেরা অপেক্ষা করার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ১২:৩৯

আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কন্ঠস্বরের নমুনা না দিতে যাওয়ায় ডায়মন্ড হারবারে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এমনটা চলতে পারে না। সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। নির্দেশ অমান্য করলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ডিজে মন্তব্য মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করার আর বাধা থাকবে না রাজ্য পুলিশের সিআইডির। আদালতে অভিষেকের যুক্তি ধোপে টিকল না।

আদালতের নির্দেশ মেনে নিয়ে আগামী ১৫ জুলাই কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুপুর ২টোয় তিনি বিধাননগর আদালতে ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছে তিনি কন্ঠস্বরের নমুনা দেবেন।  নির্বাচনী প্রচারপর্বে উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় তদন্ত করছে সিআইডি। সেই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠস্বরের নমুনা নিতে চায়। কিন্তু দ্বিতীয় বারও তিনি আদালতে হাজিরা এড়িয়ে যান। হাই কোর্টের কাছে অভিষেকের যুক্তি, ডিজে মন্তব্য যে তিনিই করেছেন, তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই আলাদা করে কন্ঠস্বর নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর এ-ও যুক্তি, তিনি আদালতে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হতে পারে। গত বুধবার অভিষেকের আদালতে যাওয়ার কথা ছিল। দু’ঘন্টা ধরে সিআইডির আধিকারিকেরা অপেক্ষা করার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

শুক্রবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি কলকাতা হাই কোর্টে হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে। বিচারপতি ভট্টাচার্যের ভর্ৎসনা করে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যকে বলেন, “আপনি কখন কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা করবেন— এই মর্মেই আমি আপনাকে রক্ষাকবচ দিয়েছিলাম। তা না করলে আমি তা প্রত‍্যাহার করে নেব।” এর পরেই বিচারপতি বলেন, “আপনি মামলাটি প্রত্যাহার করবেন? হ‍্যাঁ কি না? উত্তর দিন। মামলাটি খারিজ করে আমি তাহলে জরিমানা ধার্য করছি। না হলে অবিলম্বে কন্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল সংশ্লিষ্ট অডিয়ো থাকা কণ্ঠস্বরের সত্যতা নিয়ে কোনও বিতর্ক করছেন না। তিনি বলেন, “আমরা কণ্ঠস্বর অস্বীকার করছি না; বরং স্বীকার করছি।” তাঁর আরও অভিযোগ, “১৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা হয়েছিল। আমি একবারও দাবি করিনি, কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহে যে কোনও রক্ষাকবচ রয়েছে। যখন এই নির্দেশ জারি করা হয় তখন আমার মক্কেলের কথা শোনা হয়নি।”

বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী সাংসদকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। একই বিষয়ে নিয়ে বারবার মামলা করা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্ৎসনা করেছে হাই কোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, আদালত নির্দেশ জারি করেছে। রক্ষাকবচ দিয়েছে। বিচারবিভাগীয় ম‍্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ‍্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এমন আচরণ একেবারেই অনভিপ্রেত। বিচার ব‍্যবস্থার অপব‍্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তের সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কন্ঠস্বরের নমুনা তদন্তের মধ্যেই পড়ে। তাই কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবেই তাঁকে।

আদালতের ভর্ৎসনার পরে অভিষেকের আইনজীবী জানান, তিনি আইনের ব‍্যাখ‍্যা বুঝতে পারেননি। তিনি আবেদন প্রত‍্যাহার করার অনুমতি চান। তাঁর আরও দাবি, এই মামলায় যে কন্ঠস্বর সংগ্রহ করা হবে, তা যাতে অন‍্য মামলায় ব‍্যবহার না করা হয়। এই মামমলার ক্ষেত্রেই যাতে সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও তাতে আদালত কোনও মন্তব্য করেনি।


Share