Baruipur Incident

বারুইপুরে নিহত ইন্দ্রজিতের বাড়িতে আইজি, সংস্কার শুরু করেছে প্রশাসন, বসেছে সিসিটিভি ক্যামেরা, শনিবার ফের বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

তিনি নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তার আগেই ইন্দ্রজিতের ভাঙাচোরা বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

নিহত ইন্দ্রজিত মন্ডলের বাড়ি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৪:৫৯

বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের বাড়িতে পরিদর্শনে গেলেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই। এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও শনিবার ফের বারুইপুর যাচ্ছেন। তিনি নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তার আগেই ইন্দ্রজিতের ভাঙাচোরা বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে নির্দোষ বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্দ্রজিতের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মৃতের মা অনিমা মণ্ডল জানান, প্রশাসনের উপর এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

ইন্দ্রদের বাড়ির একদিকে টালির চাল। আর একদিকে ঢালাই রয়েছে। সকাল থেকে রাজমিস্ত্রিরা কাজ করছেন। পুত্রকে হারিয়ে বৃদ্ধ অজিত মণ্ডল মন্তব্য করেন, ‘‘আমাদের আর কী-ই বা আছে। চাওয়ার কিছু নেই। বিচার হোক। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাশে আছেন। আমরা সরকারকে বিশ্বাস করি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে রেল অবরোধ, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো এবং রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দু'জনকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর জিআরপি। শুক্রবার ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে তোলা হচ্ছে। বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে, যেখানে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ, সরকারি ও বেসরকারি গাড়ি ভাঙচুর-সহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ দিকে, এনকাউন্টার মামলার তদন্তে বারুইপুর থানায় পৌঁছেছে সিআইডির ফরেনসিক দল। তদন্তকারীরা প্রথমে থানায় প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখছেন। এরপর তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


Share