Madan Mitra

কালীঘাট তৃণমূলে বড় ভাঙন! সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা মদন মিত্রের

দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান মদন মিত্র।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৫

কালীঘাট তৃণমূলে ফের ভাঙনের জল্পনা উস্কে দিলেন মদন মিত্র। এ বার কালীঘাট তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান মদন মিত্র। সাদা পাঞ্জাবি ও কালো রোদচশমা পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। সেখানেই তিনি কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান।

ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে মদন বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই আছি। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” শিবির বদলের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মদন বলেন, “দীর্ঘ দিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।” আগামী ২১ জুলাই তিনি ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে নিজের গাড়ি চালিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সরাসরি বিধানসভায় পৌঁছোন মদন মিত্র। সেখানে গিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের কক্ষে প্রবেশ করেন। ঋতব্রতের পাশে বসেই দু'লাইনের একটি কবিতা শোনান তিনি। এরপর বলেন, “জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম।”

শিবির বদলের ঘোষণার পরই নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া আক্রমণ শানান মদন মিত্র। তিনি বলেন, “দুঃখের বিষয়, ভবিষ্যতে যখন বাংলার এই সময়ের ইতিহাস লেখা হবে, তখন সেখানে লেখা থাকবে একটা লোকের জন্য ২১৩ আসন পাওয়া গোটা দলের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছিল।” যদিও সেই ‘লোক’-এর নাম তিনি স্পষ্ট করে বলেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তাঁর ইঙ্গিত ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের পরিষদীয় শিবির কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক যোগ দেন। অন্যদিকে, হাতে গোনা কয়েক জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থেকে যান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মদন মিত্র। দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি রাজ্যের হকার সংগঠনের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া তাঁকে পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতকের পদেও নিয়োগ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে থাকা একাধিক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো নেতারা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মদন মিত্রের নামও।


Share