Bank Fraud

জাল নথি দিয়ে কোটি টাকার ঋণ! পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার তিনজন, উদ্ধার দেড় কোটি টাকা, বাকি টাকার হদিশ পেতে তদন্তে পুলিশ

ধৃতদের নাম মানস রায়, তাপস রায় এবং তন্ময় রায়। বুধবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, ২০২০ সালে পঞ্জাব ন‍্যাশনাল ব‍্যাঙ্কের সেন্ট্রাল অ‍্যাভেনিউ শাখা থেকে তিন কোটি ৯০ লক্ষ টাকা কোম্পানিটি ঋণ নেয়।

অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:১২

ব‍্যবসার জন‍্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা। অভিযোগ, এই টাকা আরও তিনটি কোম্পানির মাধ্যমে তা ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ঋণের টাকা শোধ হয়নি। প্রতারণার অভিযোগে হাওড়ায় ডুমুরজোলা থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট পাঁচ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছিল। তল্লাশিতে দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ধৃতদের নাম মানস রায়, তাপস রায় এবং তন্ময় রায়। বুধবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, ২০২০ সালে পঞ্জাব ন‍্যাশনাল ব‍্যাঙ্কের সেন্ট্রাল অ‍্যাভেনিউ শাখা থেকে তিন কোটি ৯০ লক্ষ টাকা লিনিংস ভেনচার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ঋণ নেয়। ধৃতেরা এই কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন। এই কোম্পানিটি তুলোর ব‍্যবসা করত। ধৃতেরা ব‍্যবসার প্রকৃতি পরিবর্তন করতে ব‍্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেন। এসি, টিভি, ফ্রিজের ব‍্যবসা করতে চেয়েছিলেন।

অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল জানান, এই বিপুল টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য হাওড়ার একটি সাত কাঠা জমির ওপরে বহুতলের বিল্ডিং প্ল্যান বন্দক হিসেবে দেখায়। হাওড়া পুরসভার দাখিল করা সেই সমস্ত কাগজপত্র সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল। হাওড়া পুরসভার সেই কাগজপত্রের ভিত্তিতে ব‍্যাঙ্ক ঋণ দেয়। ঋণ নেওয়ার পরেও তাঁরা পরিশোধ করেনি। কিস্তির টাকা ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব‍্যাঙ্কে জমা করেনি। তা বর্তমানে ছ’কেটি টাকা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর পরেই ব‍্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে লালবাজারের ব‍্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখার গোয়েন্দারা ডুমুরজোলায় অভিযান চালান। সেখান থেকেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক কোটি ৫৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ দিন অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানান, ঋণ পরিশোধের বদলে তিনটি ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে টাকা ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে জাল নথি ব‍্যবহার করে ঋণ দেওয়া হল তা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব‍্যাঙ্কের ম‍্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানিয়েছেন তিনি। ভুয়ো বিল্ডিং প্ল‍্যানই বা কী করে অনুমোদিত হয়ে গেল তা নিয়ে হাওড়া পুরসভার আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


Share