Tender

চুক্তির মেয়াদ শেষের তিন মাস আগেই টেন্ডার বাধ্যতামূলক, সরকারি কাজে একই সংস্থার পুনরাবৃত্তি রুখতে কড়া নির্দেশ নবান্নের

রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবার থেকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন টেন্ডার ডাকতে হবে। চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা পুনর্নবীকরণ করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে তা অর্থনৈতিক বিধি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

নবান্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৪

রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে একই সংস্থাকে বারবার কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তাতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করতেই হবে। একই সংস্থার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা পুনর্নবীকরণের প্রথায় এবার কার্যত ইতি টানল রাজ্য সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে মোট পাঁচ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, কোনও সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে থেকেই নতুন টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যাতে পুরনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে নতুন সংস্থা নির্বাচন করা যায়।

নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও সংস্থার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা পুনর্নবীকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে টেন্ডার ডাকা না হলে তার জন্য কোনও অজুহাতও গ্রহণযোগ্য হবে না।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন দফতর থেকে প্রায়ই একই সংস্থাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য অর্থ দফতরের কাছে আবেদন আসে। অনেক ক্ষেত্রেই অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে নবান্নের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ অর্থনৈতিক বিধির পরিপন্থী।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাধিক সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু একই সংস্থাকে বারবার কাজের বরাত দেওয়া বা তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে সেই স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার সুযোগ নষ্ট হয়।

এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনও সংস্থার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলে কিংবা সময়মতো টেন্ডার না ডেকে বিলম্ব করা হলে তা অর্থনৈতিক বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নবান্ন জানিয়েছে।


Share