Calcutta High Court

ভিক্টোরিয়া হাউসে ২১ জুলাইয়ের সভায় হাই কোর্টের 'না', মেট্রো চ্যানেল-ডোরিনা-রানি রাসমণি-সহ চার বিকল্প স্থানের প্রস্তাব কালীঘাট তৃণমূলের

পরিবর্তে তারা আদালতে চারটি বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান জানার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। শুনানি নির্ধারিত হয়েছে দুপুর সাড়ে ১২টায়।

২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে হাই কোর্টের দারস্থ কালীঘাট তৃণমূল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০১:০৭

ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি মিলছে না। বুধবার কালীঘাট তৃণমূল গোষ্ঠীর দায়ের করা মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওই স্থানে সভা করা যাবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার দাবিও প্রত্যাহার করে নেয় কালীঘাট তৃণমূল। পরিবর্তে তারা আদালতে চারটি বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান জানার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। শুনানি নির্ধারিত হয়েছে দুপুর সাড়ে ১২টায়।

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতাপন্থী তৃণমূল। দলের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন জানানো হলেও দীর্ঘদিন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। এরপর তারা বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলা দায়েরের পরই কলকাতা পুলিশ জানিয়ে দেয়, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবর্তে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বা হাজরা মোড় এই দুই জায়গার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, মমতাপন্থী তৃণমূলের আবেদন জমা পড়ার পরই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরকে মেয়ো রোডে এবং কংগ্রেসকে শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার কালীঘাট তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাই কোর্টে।

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি না মেলায় তৃণমূলপন্থী আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাই কোর্টে জানান, বিকল্প হিসেবে তাঁরা মেট্রো চ্যানেলে সভা করতে ইচ্ছুক। এ কথা শোনার পর বিচারপতি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চান, তাঁদের কর্মসূচিতে আনুমানিক কত জনের সমাগম হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। জবাবে কল্যাণ বলেন, ‘অন্তত ২০ হাজার।’ তার পরেই বিচারপতি কল্যাণদের হাজরা মোড়ে সভা করার পরামর্শ দেন। পাল্টা কল্যাণ বলেন, ‘আগে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে করতাম। এ বার যদি না হয়, সে ক্ষেত্রে মেট্রো সিনেমার উল্টো দিকে মেট্রো চ্যানেলে সভা করতে দেওয়া হোক। ডোরিনা ক্রসিংও হতে পারে। রানি রাসমণি হলেও হবে। বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের সামনে হলেও সমস্যা নেই।’

এর পরেই এই মামলার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। তিনি বলেন, ‘এখানে তৃণমূল কংগ্রেস মামলার আবেদনকারী নয়। তা ছাড়া ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যত্র হলে সমস্যা। কারণ ইতিমধ্যেই দু’টি সংগঠনকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন তৃতীয় কাউকে দিলে একটা দূরত্ব রেখে দিতে হবে।’

শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের দায়িত্ব। কোনও সভার অনুমতি দেওয়া হলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতেই হবে। পাশাপাশি, একই সময়ে কাছাকাছি আরও দু’টি কর্মসূচি থাকায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘ডোরিনা ক্রসিংয়ে সভার অনুমতি দিতে অসুবিধা কোথায়? কিংবা এসপ্ল্যানেড ইস্টে হলে সমস্যা কী?’

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার মধ্যে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলেছে আদালত। বিচারপতি বলেন, ‘ভোটের আগেও এমন সমস্যার সমাধান করেছি, আর ভোটের পরেও করছি!’


Share