Enquiry Commission

তৃণমূল জমানায় সরকারি টাকা কীভাবে ‘উবে’ গিয়েছে? আম্পান থেকে বেআইনি নির্মাণ, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার

বলা হয়েছে, আম্পানের ত্রাণ, খাদ‍্য ও সরবরাহ, মিড-ডে মিল, বিপর্যয় মোকাবিলা, শিক্ষা, পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি টাকা কীভাবে নয়ছয় করা হয়েছে তা নিয়ে এই তদন্ত কমিশন খতিয়ে দেখবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৪২

তৃণমূল জমানায় কীভাবে টাকার নয়ছয় হয়েছে এ বার তা নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ‍্য সরকার। গত ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই ১৫ বছরে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করবে ওই কমিশন। নবান্নের তরফে গত ১০ জুলাই এই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আম্পানের ত্রাণ, খাদ‍্য ও সরবরাহ, মিড-ডে মিল, বিপর্যয় মোকাবিলা, শিক্ষা, পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি টাকা কীভাবে নয়ছয় করা হয়েছে তা নিয়ে এই তদন্ত কমিশন খতিয়ে দেখবে। এই কমিশনের মাথায় থাকবে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

নবান্ন সূত্রের খবর, ত্রাণ ও দুর্নীতি, হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজে দুর্নীতি, আম্পানের ত্রাণ দুর্নীতি, রেশন বন্টনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, প্রাথমিক, উচ্চশিক্ষা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি, চাকরিতে দুর্নীতি, মিড-ডে মিলে দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজের অনিয়মের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে রাজ‍্যে সরকারের গঠিত এই কমিশন। মিথ‍্যা মামলা, বেআইনি গ্রেফতার এবং ক্ষমতার অপব‍্যবহারের অভিযোগও এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। এই কমিটির মাথায় থাকবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ের মাথায় প্রবীণ আইপিএস অফিসারকে রাখা হবে। প্রশাসনিক দিকটি খতিয়ে দেখবেন এক আইএএস বা ডব্লুউবিসিএস অফিসার। রেভিনিউ সার্ভিস ক‍্যাডারের এক আধিকারিক এই তদন্ত কমিশনকে প্রযুক্তিগত ভাবে সাহায্য করবেন। কমিশন চাইলে রাজ‍্য সরকারের অনুমতি নিয়ে সদস্যের সংখ্যা বাড়াতে পারবে।

রাজ‍্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই ১৫ বছরের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কোথায় হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করার পাশাপাশি সেই টাকা কীভাবে পুনরায় অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়েও রাজ‍্য সরকারকে পরামর্শ দিতে পারবে। মিথ‍্যা মামলা বা বেআইনি ভাবে গ্রেফতার কাউকে করা হয়েছে কি না তা-ও দেখবে এই কমিশন। কীভাবে পুরসভার নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, সেটাও এই কমিশনে খতিয়ে দেখবে। কমিশন যদি মনে করে দুর্নীতি হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিককে এফআইআর দায়ের করার জন‍্য নির্দেশও দিতে পারবে। তবে রাজ‍্যে যে সব দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি কাজ করছে তাতে এই কমিশন হাত দেবে না। একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই কমিশন রাজ‍্য সরকারকে রিপোর্ট দেবে।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। তিনি বলেছিলেন, “অনেকে ভাবছেন, দু’মাস থাকলাম তারপরে আইনি লড়াই করে বেরিয়ে আসলাম। তাঁদের মনে রাখতে হবে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। তার পরে নিলাম করব।” এমনকী, তিনি একটি সভা থেকে বলেন, “হরিশ মুখার্জি রোডের ওই বাড়িগুলিতে শহরের ব্রিজের নীচে থাকা গরিব মানুষদের রাখব।”


Share