Middle East Conflict

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা চাই, ইরানকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ট্রাম্প প্রশাসনের! না মানলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’-এর হুঁশিয়ারি আমেরিকার

ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে ইরান। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৯

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে ইরানকে, এমনই বার্তা দিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়স কয়েক জন সরকারি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির মাধ্যমেও একই বার্তা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে ইরান। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিবৃতি জারির আগে ইরানের কাছে দু’টি স্পষ্ট নিশ্চয়তা চেয়েছে আমেরিকা। প্রথমত, ইরানকে নিশ্চিত করতে হবে যে বিশ্বের যে কোনও দেশের বাণিজ্যিক বা পণ্যবাহী জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী অবাধে উন্মুক্ত থাকবে এবং এই জলপথ ব্যবহার করতে কোনও অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে না। দ্বিতীয়ত, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজের উপর হামলা বা নিরাপত্তাজনিত হুমকি তৈরি হবে না, এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তেহরানকে। এক আমেরিকার আধিকারিকের কথায়, ‘‘আমরা চাই ওরা প্রকাশ্যে ঘোষণা করুক যে, হরমুজ প্রণালীতে কোনও জাহাজের উপর আর গুলি চালানো হবে না। স্পষ্ট ভাবে বা অন্তত পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করুক যে, ওরা ভুল করেছে। আমরা চাই, ইরানিরা হরমুজ় প্রণালীর সব ক’টি চ্যানেল বিনাশুল্কে খোলার কথা ঘোষণা করুক।’’

আমেরিকার এই দাবির পরেও ইরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে শুক্রবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, শনিবার ওমান সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেখানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। আমেরিকার প্রশাসনের আশা, ওই বৈঠক শেষ হওয়ার পরই ইরান এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক আমেরিকার আধিকারিক। তাঁর কথায়, ‘‘শনিবার যদি ওরা এই সিদ্ধান্তে না পৌঁছোয়, দিনটা ওদের জন্য খুব একটা ভাল হবে না।’’

তিন সপ্তাহ আগে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তিতে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা উল্লেখ ছিল। তবে অভিযোগ, মউ-এর শর্ত ভেঙে হরমুজ প্রণালীতে একাধিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর জবাবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় আমেরিকা। যদিও ইরান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারাই আগে মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। এরপর পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একাধিক আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে তেহরান। এতে গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ কার্যত শেষ।

আমেরিকার দাবি, সংঘর্ষের পথ থেকে সরে এসে ইরান ফের কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটতে আগ্রহী। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান আলোচনায় বসার বার্তা পাঠিয়েছে। তবে শুক্রবার সেই দাবি খারিজ করে দেন ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। তাঁর বক্তব্য, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরান কেবল তাতে সম্মতি জানিয়েছে, আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি। শনিবার ওমানে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বৈঠকের পর তেহরানের পরবর্তী অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।


Share