Impure Milk

আসল দুধে মেশানো হচ্ছিল কৃত্রিম দুধ! ডিটারজেন্ট-রাসায়নিক দিয়ে ভেজাল তৈরির অভিযোগে মহারাষ্ট্রে, কিডনি-লিভার বিকলের আশঙ্কায় সতর্ক চিকিৎসকরা

রাজ্যের ধরাশিব জেলার ভুম এলাকায় ডিটারজেন্ট, পাম অয়েল এবং নিম্নমানের বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে প্রায় দু'কোটি ৩০ লক্ষ লিটার ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মহারাষ্ট্র
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪০

মহারাষ্ট্রে দুধে ভেজালকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। রাজ্যের ধরাশিব জেলার ভুম এলাকায় ডিটারজেন্ট, পাম অয়েল এবং নিম্নমানের বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে প্রায় দু'কোটি ৩০ লক্ষ লিটার ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহও করা হয়েছিল। ঘটনায় সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের খোঁজে এক পুলিশ ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে পুলিশ।

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ধরাশিব জেলার ভুম এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও রাজ্যের খাদ্য এবং মাদক প্রশাসন। সেই অভিযানে সামনে আসে বৃহৎ ভেজাল দুধ চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় দু'লক্ষ ৩০ হাজার কেজি নিম্নমানের গুঁড়ো দুধ ব্যবহার করে ২৩ লক্ষ লিটারেরও বেশি কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই কৃত্রিম দুধ আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে ভেজাল দুধ হিসেবে বিক্রি করা হত। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতি ১০০ লিটার আসল দুধের সঙ্গে প্রায় ১০ লিটার কৃত্রিম দুধ মিশিয়ে এই ভেজাল দুধ প্রস্তুত করা হতো।

তদন্তে উঠে এসেছে, জামাকাপড় কাচার ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম তেল এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হত কৃত্রিম দুধ। পরে সেই কৃত্রিম দুধের সঙ্গে আসল দুধ মিশিয়ে এমনভাবে ভেজাল দুধ প্রস্তুত করা হত, যাতে ক্রেতাদের পক্ষে সহজে তা চিহ্নিত করা সম্ভব না হয়। এজন্য দুধের রং ও ফ্যাটের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই পদ্ধতিতে প্রায় সাড়ে ন'কোটি টাকার ভেজাল দুধ তৈরি করা হয়েছিল।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, ডিটারজেন্ট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো দুধ পান করলে কিডনি ও যকৃত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিকল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিপাকতন্ত্রের উপরও এর গুরুতর প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভেজাল দুধ শিশু, প্রবীণ এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। গুরুতর শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দেশের খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এ ধরনের ভেজাল দুধ তৈরি ও বিপণনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত কারখানা থেকে ৬১ বস্তা ভেজাল গুঁড়ো দুধ উদ্ধার করেছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, এই ভেজাল দুধ চক্রের মূল পান্ডা বালাসাহেব গোড়গে। অভিযোগ, তিনিই বিভিন্ন ডেয়ারি ইউনিটে ভেজাল গুঁড়ো দুধ সরবরাহ করতেন, যা থেকে তৈরি হতো ভেজাল তরল দুধ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এলাকার একাধিক দুধ সংগ্রহকেন্দ্রও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ভুম এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দুধ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হতো। ওই দুধ ব্যবহার করে মূলত খোয়া ও ক্ষীরের মতো দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য তৈরি করা হতো।


Share