Nepal Flash Flood

নেপালে বিপর্যয়ে মৃত্যুমিছিল! বাড়ি থেকে উদ্ধার ২৩ দেহ, নিখোঁজ প্রায় চার হাজার, ধ্বংসস্তূপে এখনও চলছে তল্লাশি

অন্য দিকে, রসুয়া জেলার উত্তরগয়া এলাকায় প্রায় ৩৫০ জন পড়ুয়ার নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অশনাক্ত দেহগুলিকে ইতিমধ্যেই কবর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নেপালে চলছে উদ্ধারকাজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নেপাল
  • শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৫

নেপালের নুয়াকোট জেলার বেত্রবন্তী এলাকায় একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ২৩ জনের দেহ। জেলা পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি এই তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বাড়ির মালিকের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। একটি বাড়ির ভিতর থেকে একসঙ্গে এতগুলি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। মৃতেরা ওই বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন, নাকি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্য দিকে, রসুয়া জেলার উত্তরগয়া এলাকায় প্রায় ৩৫০ জন পড়ুয়ার নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অশনাক্ত দেহগুলিকে ইতিমধ্যেই কবর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিপর্যয়ের পর যত দিন গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা। নেপাল বিপর্যয় দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৮৭। এখনও নিখোঁজ তিন হাজার ৯১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। বিপর্যয়ের পর এখনও পর্যন্ত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ভারত সরকারও জানিয়েছে, নেপাল থেকে এখনও পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয় পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই তথ্য জানানো হয়।

এ দিকে, ইউরোপের কোপারনিকাস অবজ়ারভেটরির তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ত্রিশূলী উপত্যকায় দু'হাজার ৫০০-এর বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ত্রিশূলী উপত্যকার তিমুর, স্যাব্রুবেসী এবং বিদুরে প্রায় ছ'হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর সেই এলাকা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ত্রিশূলী এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪২ জন ইঞ্জিনিয়ার আটকে রয়েছেন। পাশাপাশি, ত্রিশূলীর অন্য একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ১১৮ জন ইঞ্জিনিয়ারেরও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। উদ্ধারকাজ পুরোদমে চললেও পরিস্থিতি ক্রমশ আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি বিপর্যয়ের পর সংক্রমণ ও মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবাহ বিপর্যয় নেমে আসে। হড়পা বানে সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।


Share