Abhishek Banarjee

ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে হোর্ডিং খুলতে গিয়ে তুমুল অশান্তি, মহিলা পুলিশকে হেনস্থা ও পুরকর্মীদের মারধরের অভিযোগ, তিন এফআইআর অভিষেক-ডেরেক বিরুদ্ধে

সেই ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মহিলা পুলিশকর্মীদের শ্লীলতাহানি, অবৈধ জমায়েত এবং কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৪০

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার, ২৭ অগস্ট, অশান্তির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মহিলা পুলিশকর্মীদের শ্লীলতাহানি, অবৈধ জমায়েত এবং কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেক্সপিয়র সরণি থানায় তলব করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তাঁদের কেউই থানায় হাজির হননি। এর মধ্যেই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে কলকাতা পুলিশ তিনটি এফআইআরই অনলাইনে আপলোড করে দিয়েছে। ফলে অভিযুক্তেরা মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ধারাগুলি দেখতে পারবেন। তিনটি এফআইআরেই একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে। ওই বিকেলের ঘটনার জেরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রথম দু’টি এফআইআর, ১৪৬ এবং ১৪৭ নম্বরে, অভিযুক্তদের তালিকায় প্রথমেই কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের নাম রয়েছে। দ্বিতীয় নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এ ছাড়াও, এফআইআরে হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের নাম রয়েছে। প্রথম এফআইআরটি দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানার সাব-ইনস্পেক্টর সুমিতকুমার শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর অভিযোগ, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে বেআইনি হোর্ডিং খোলার জন্য কলকাতা পুরসভার তরফে পুলিশের কাছে লিখিত ভাবে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। সেই মতো বিকেল তিনটে নাগাদ পুলিশ ও পুরকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। অভিযোগ, সেখানে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা বহুতলে ঢোকার রাস্তা আটকে দেন। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। তাঁরা বহুতলের সকলের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আটকে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সেখানে ঢুকতে বাধা দেন বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি, মহিলা পুলিশকর্মীদের মারধর এবং তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে। দ্বিতীয় এফআইআরটি নথিভুক্ত হয়েছে কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপকুমার বসুর অভিযোগের ভিত্তিতে।

সুদীপ তাঁর লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, পুরসভার নির্দেশে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বহুতলে পুরকর্মীরা হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন এবং বৈশ্বানরের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের কাজে বাধা দেন। পুরকর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি হোর্ডিং খোলার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তৃতীয় এফআইআরটি দায়ের হয়েছে পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, ২৭ অগস্ট বিকেল সওয়া পাঁচটা নাগাদ কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ ডিভিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে তাঁকে ক্যামাক স্ট্রিটে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর এক সাব-ইনস্পেক্টর এবং এক কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক জন তাঁদের পথ আটকান এবং ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ। তাঁদের আটকাতে গেলে পুলিশকর্মীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। ওই অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিলবোর্ড বা হোর্ডিংটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল।

তিনটি মামলায় ইতিমধ্যেই ১৪ জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁরা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।


Share