Allegation Of Assault

পঞ্চায়েতে শৌচাগার চাইতে গিয়ে হেনস্থা! কান ধরে ওঠবস করানো অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, থানায় অভিযোগ দায়ের

সরকারি শৌচাগারের সুবিধা নিতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হলেন কুলপি ব্লকের দক্ষিণ গাজিপুরের বাসিন্দা সন্তোষ ন্যায়বান। এই বিষয় পঞ্চায়েতে জানতে গেলে তাঁকে পঞ্চায়েতের ভেতরে মারধরের পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

পঞ্চায়েত শৌচাগার চাইতে গিয়ে জুটল মার
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা
  • শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৫৫

শৌচাগার পাওয়ার আশায় পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। অভিযোগ, সেখানে তৃণমূলের পঞ্চায়েতে প্রধানের স্বামী এবং তাঁর দলবল তাঁকে হেনস্থা করেছে। তাঁকে মারধরের পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে বলেও আভিযোগ। সোমবার সকালে কুলপি ব্লকের দক্ষিণ গাজিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। 

আক্রান্ত ব‍্যক্তির নাম সন্তোষ ন্যায়বান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ ন্যায়বান সরকারি শৌচাগারের সুবিধার পাওয়ার জন্য মাস কয়েক আগে স্থানীয় পঞ্চায়েতে আবেদন করেছিলেন। অনেক দিন অপেক্ষা করেও শৌচাগার পাননি সন্তোষবাবু। তাই কবে শৌচাগার মিলবে, তা জানতে এ দিন তিনি পঞ্চায়েতে যান। অভিযোগ, সেই সময় প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আব্দুর রহিম মোল্লা তাঁর ওপর চড়াও হন। তিনি ও তাঁর দলবল ওই ব্যক্তিকে মারধরও করে। এমনকি পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরেই তাঁকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়। তিনি কুলপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সন্তোষ জানান, শৌচাগারের জন্য কয়েক মাস আগেই তিনি পঞ্চায়েতে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি সেটা পাননি। কেন তিনি এখনও তা পাননি সেটা জানতেই পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন। শৌচাগার দেওয়ার জন্য তার থেকে টাকাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার দিন কিছু জানানোর আগেই আচমকাই তাকে মারধর করতে থাকে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী ও তার দলবলেরা। পঞ্চায়েতে আসা সমস্ত লোকজনের সামনে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, “এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। মিথ্যা অভিযোগ করে আমাদের গায়ে দাগ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতারা। মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি নবেন্দুসুন্দর নস্কর বলেন, “সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার একইসঙ্গে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই ঘটনা তারই প্রমাণ।' কুলপির তৃণমূল বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার বলেন, 'বিরোধীরা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কুৎসা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”


Share