Panihati Municipality

তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের নামে মিউটেশন, প্রতিবন্ধী স্কুলের জমি নিয়ে তোলপাড় পানিহাটি

সম্প্রতি স্থানীয় বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ তোলেন, পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের নামেই ওই জমির মিউটেশন হয়েছে। যদিও তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পানিহাটি পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, পানিহাটি
  • শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৪

সরকারি স্তরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বছর খানেক আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি প্রতিবন্ধী স্কুল ও গ্রন্থাগারের জমি শাসকদলের এক বিধায়ক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে মিউটেশন হয়েছে। এমন অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরপ্রধান মিউটেশন বিভাগের কাছে শোকজ নোটিস পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, তাঁদের অগোচরে কী ভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল।

সোদপুর স্টেশন সংলগ্ন স্কুল রোডের সি ব্লকে ছিল ‘বিধানচন্দ্র রায় প্রতিবন্ধী বিদ্যায়তন’ ও একটি গ্রন্থাগার। দোতলা ভবন-সমেত সেই প্রতিষ্ঠান এখন আর নেই, বছর খানেক আগে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। সম্প্রতি স্থানীয় বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে অভিযোগ তোলেন, পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের নামেই ওই জমির মিউটেশন হয়েছে। যদিও বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সূত্রের দাবি, পুরবোর্ডের রেজলিউশন অনুযায়ী কোনও জমির মিউটেশনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধির সম্মতি প্রয়োজন। অভিযোগ উঠেছে, এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি। শাসকদলেরই কয়েক জন পুরপ্রতিনিধির মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরপ্রধান সোমনাথ দে জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরেই তিনি পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন।

বাম আমলে এক ব্যক্তির দান করা জমিতে গড়ে উঠেছিল স্কুলটি। সরকারি অনুদানও মিলত। তবে অজ্ঞাত কারণে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে ভেঙে ফেলা হয়। উল্লেখ্য, স্কুলের সভাপতি ছিলেন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। সেই প্রেক্ষাপটে জমির মিউটেশন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, 'জমি দখলের বিষয়টি আমি প্রকাশ্যে আনার পরেই কয়েক দিন আগে তড়িঘড়ি বিধায়ক নিজে পুরসভায় গিয়ে মিউটেশন করিয়েছেন।' সিপিএম নেতা শুভব্রত চক্রবর্তীরও অভিযোগ, 'পানিহাটিতে জমি দখলের অভিযোগ নতুন নয়। একের পর এক জমি বিধায়কের মদতেই দখল হয়ে চলেছে।'

অন্যদিকে নির্মল ঘোষের বক্তব্য, ২০০৫ সালে সোসাইটির নামে জমির রেজিস্ট্রি হয়েছে এবং তিনি সেই সোসাইটির সভাপতি। তাঁর মেয়ে স্কুলের প্রিন্সিপাল থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের নাম রেজিস্ট্রিতে ছিল। ২০২৩ সালে জমির মিউটেশন সম্পন্ন হয়। জমিদাতাদের কিছু অংশের জমি থাকায় সীমানা নির্ধারণ ও পরিমাণ নথিবদ্ধ করার জন্যই সম্প্রতি পুরসভায় আবেদন করা হয়েছিল। তাঁর কটাক্ষ, সরকারি জমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা যায় না, এ কথা বিরোধীদের জানা উচিত।


Share