Road Accident

বসিরহাটে বাইক ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত এক, আহত আরও এক

আহতকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদাতা, বসিরহাট
  • শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:১২

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মাটিয়ারা এলাকায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। বাইক ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও একজন রয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাস্তা অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম শামীম মণ্ডল (৩০)। তিনি রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। আহত যুবক পার্থ দাস (২৫)। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে বাইকে চড়ে দুই যুবক রাজাপুরের দিকে ফিরছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জনেই ছিটকে পড়েন।

দুর্ঘটনার পর রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা শামীম মণ্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পার্থ দাসকে প্রথমে ভর্তি করা হলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে মাটিয়ারা এলাকায় পথ অবরোধ করেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাক্টর চালকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ শামীমের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ কী—সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত চালককে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

হঠাৎ এই  দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজাপুর এলাকায়। পরিবারে একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা শামীমের পরিবার। এলাকাবাসীর দাবি, ওই রাস্তায় নিয়মিত গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ব্যবস্থা না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।


Share