Murder Case

ঘরের মেঝেয় রক্তাক্ত দেহ, গলায় কাটার দাগ! কাটোয়ায় মহিলার মৃত্যু ঘিরে রহস্য

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় গলায় কাটার দাগ-সহ উদ্ধার চিন্তামনি মণ্ডলের দেহ। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে ব্লেড ও মোবাইল।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০০

বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার হল এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ। গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে। মৃতার নাম চিন্তামনি মণ্ডল। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার বাদরা গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নিজের ঘর থেকেই চিন্তামনির দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। গলাতেও রয়েছে কাটার দাগ। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্লেড এবং মৃতার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই মৃতার দুই আত্মীয়কে তদন্তকারীরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। কী কারণে এই খুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে রোগভোগে মৃত্যু হয় চিন্তামনির স্বামীর। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। ছেলের পাঠানো টাকাতেই চিন্তমনি সংসার চালাতেন। তাঁর বাড়ির পাশেই ভাসুর প্রশান্ত মণ্ডল এবং তাঁর পরিবার থাকেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রাতের অন্ধকারে চুপিসারে ঘরে ঢুকে চিন্তামনিকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে খুনের পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতার শরীরে গয়না ছিল। সেগুলিতে হাত দেওয়া হয়নি। ফলে চুরির উদ্দেশ্যে এই খুন নয় বলেই প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে পুলিশ।

পারিবারিক বিবাদ, নাকি খুনের পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ—তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে কাটোয়া থানার পুলিশ। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর কারণ ও খুনের নেপথ্যের আসল কারণ আরও স্পষ্ট হবে।


Share