Howrah Municipal Corporation

শেষ ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে! হাওড়া পুরসভার ভোটের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের

দীর্ঘ টালবাহানার পরে এ বছর এপ্রিলে হাওড়া পুরসভার সংশোধনী বিলে সায় দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ফলে, হাওড়া পুরসভায় ভোট হওয়ায় আর কোনও বাধা নেই বলে আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১৪

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাওড়া পুরসভার ভোট হয়নি। এ ব্যাপারে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাও দীর্ঘদিন যাবৎ কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। ওই মামলা যিনি করেছিলেন, তাঁর আইনজীবী অবিলম্বে নির্বাচনের জন্য হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। ওই আবেদন বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।

সূত্রের খবর, আগামী বছর বিধানসভা ভোটের আগে হাওড়া-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভায় ভোট করানোর ব্যাপারে রাজ্য সরকার আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে। এরই মধ্যে হাওড়ার ভোট নিয়ে হাইকোর্টেও আবেদন জমা পড়ল। দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভার মাথায় পুর প্রশাসক থাকলেও সম্প্রতি তাঁকেও সরিয়ে দেয়। ফলে পুরসভার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ।

হাওড়াবাসীর অনেকেই চাইছেন, পুরসভার ভোট দ্রুত হোক। সেটা নিশ্চিত করতে হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করুক। ২০১৩ সালে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছিল। সে বার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জেতে তৃণমূল। তার পরে বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস হয়। পুনর্বিন্যাসের পরে ১৬টি ওয়ার্ডে পরিণত হয় বালি পুরসভা। বাকি ওয়ার্ডগুলি হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত হয়।

এর পরে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ওই ১৬টি ওয়ার্ডে 'উপনির্বাচন' করানো হয়। বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডেই ঘাসফুল শিবিরের দখলে যায়। তবে ২০২১ সালে রাজ্যে তৃণমূল তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্য সরকার হাওড়া পুরসভা থেকে বালি পুরসভাকে ফের আলাদা করার জন্য বিল পাশ করে। আর এটা নিয়েই তৈরি হয় আইনি জটিলতা। তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিলে সম্মতি না দিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন। সেই বিল দীর্ঘদিন আটকে থাকার পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাতে সম্মতি দিয়েছেন।


Share