TMC Inner Clash

তারকেশ্বরে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, তারকেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়ের বিরুদ্ধে রাস্তা অবরোধে দলীয় কর্মীরাই

এ দিন তারকেশ্বরের নাইটা মাল পাহাড়পুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সঞ্চালক সঈদুল মোল্লার নেতৃত্বে তৃনমূল নেতা কর্মী ও গ্ৰামবাসী তৃনমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হন। বিধায়কের বিরুদ্ধে হাতে পোস্টার নিয়ে চলে স্লোগান। এর পর তারা ডানকুনি -চাঁপাডাঙ্গা রাজ্য সড়কে উঠে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

তৃনমূলের বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৬

ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। তৃনমূল কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করল দলের কর্মীরাই। পাশাপাশি রাস্তা অবরোধের কর্মসূচীও চলল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় তারকেশ্বরের পিয়াসারা মোড়ে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে।

এ দিন তারকেশ্বরের নাইটা মাল পাহাড়পুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সঞ্চালক সইদুল মোল্লার নেতৃত্বে তৃনমূল নেতাকর্মী ও গ্ৰামবাসী দলীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হন। বিধায়কের বিরুদ্ধে হাতে পোস্টার নিয়ে চলে স্লোগান। এর পর তারা ডানকুনি -চাঁপাডাঙ্গা রাজ্য সড়কে উঠে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। রাস্তায় ওপরে বসে পড়ে চলে বিক্ষোভ। এর জেরে দুপুরে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রসাশন ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেবার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু। পরে তা হাতাহাতি ও ঠেলাঠেলিতে পৌঁছোয়। 

স্থানীয় তৃণমূলকর্মীদের অভিযোগ, বিধায়ক বেশ কিছু জমি ও মাটি মাফিয়াদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে। তারা মানুষের জমি, বাড়ি, জায়গা জোর করে দখল করে নিচ্ছে। পাশাপাশি এখানকার পুলিশ প্রশাসন বিত্তশালীদের দ্ধারা প্রভাবিত হচ্ছে। তৃণমূলকর্মী যারা নির্বাচনে দলের হয়ে পরিশ্রম করে, তাদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসাচ্ছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় বিগত দিনে বিজেপিকে অর্থ সাহায্য করেছে। বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন। ২০১৬ সালে সিপিএমকে সাহায্য করেছেন। এখন সেই তাঁকে নেতা বলে মানতে হবে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা লিখিত আকারে পুলিশের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন। পুলিশ সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।

যদি ও বিক্ষুব্ধ তৃনমূল নেতার দাবিকে মান্যতা দেননি তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়। বিধায়কের দাবি, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, প্রধান সব ওরা । পঞ্চায়েত চালাচ্ছে ওরাই । আবার ওরাই বিধায়ককে মানে না। তাই বিধায়কের নাম করে যদি কেউ পয়সা নেয় , তাহলে ওরাই পয়সা নিচ্ছে। যদি কোথায় কাটমানি কেউ নেয় তাহলে ওরাই নিচ্ছে।

সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে তৃনমূলের গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি গনেশ চক্রবর্তী বলেন, “দলটির জন্মলগ্ন থেকেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। তারকেশ্বরের রামেন্দু সিংহরায় নিজে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বজায় রেখেছে। নিজেরাই মারপিট করছে, নিজেরাই নিজেদের কেস দিচ্ছে আবার নিজেরাই রাস্তা অবরোধ করছে।”


Share