Special Intensive Revision

৪ মে’র মধ্যে নির্বাচন না হলে রাস্ট্রপতি শাসন, দাবি শুভেন্দুর, তৃণমূল নেতাদের ‘চন্দ্রবোরা, কেউটে’ বলে কটাক্ষ বিরোধী দলনেতার

একদিকে এসআইআরের বিরোধিতা রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুবাড়ি পর্যন্ত মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন‍্যদিকে, সোদপুর থেকে আগরপাড়া তেঁতুলতলা পর্যন্ত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সোদপুরে বক্তব্য রাখছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বৈশালী কর্মকার, সোদপুর
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৫৪

রাজ‍্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর। তা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়মে উঠছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচন না হলেই রাজ‍্যে জারি হবে রাস্ট্রপতি শাসন। মঙ্গলবার আগরপাড়ার সভা থেকে এমনটাই জানালেন শুভেন্দু।

সেখান থেকেই রাজ‍্যে ‘রাস্ট্রপতি শাসন’-এর প্রসঙ্গ টানেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটার তালিকা বের করা বিজেপির দায় নয়। নির্বাচন কমিশনের দায়। আর দায় পিসি-ভাইপোর কোম্পানির।” গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরে সরকার গঠন হয়েছিল ৫ মে। ২০২৬ সালে ৪ মে সরকার গঠন করতে হবে। এই নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ ৪ মে সরকার গঠন করতে গেলে ৭ ফেব্রুয়ারি চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এসআইআর যদি না করতে দেওয়া হয়, বিএলওদের যদি মারতে আরাম্ভ করে, যদি সিএএ-র মতো ট্রেন পোড়ানো আর বাস পোড়ানো শুরু হয়, ধুলিয়ান, সমশেরগঞ্জ, মহেশতলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ভোটার তালিকা বেরোবে না। ভোটার তালিকা না বেরোলে ভোট হবে না। আর না হলে ৪ মে’র মধ্যে সরকার গঠন হবে না। সরকার গঠন না হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।” 

যদিও এর আগেও বিজেপি রাজ্যে রাস্ট্রপতি শাসন জারি করে নির্বাচন করানোর দাবি তুলেছিল। তবে মঙ্গলবারের বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরে সেই জল্পনা আরও জোরালো হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর পাশাপাশি, বিজেপি কর্মীদের বুথে শক্তি বাড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। 

এ দিন আগরপাড়ার সভামঞ্চ থেকে শাসক দলের মিছিল সরাসরি আক্রমণ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনার বাড়ির আশেপাশে যদি চন্দ্রেবোরা, গোখরো, কেউটে সাপ দেখা যায় তাহলে আপনারা কি করেন? কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ান। যাতে এই সাপগুলি বাড়িতে না ঢোকে। ঠিক তেমনিই নির্বাচন কমিশন এই বিষাক্ত সাপেদের (তৃণমূল) গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছে। তাই পিল পিল করে বেরিয়ে পড়েছে। ধর্মতলায় খালা মমতা আর কয়লা ভাইপো হাঁটছে। তার পিছন দিকে রয়েছে এই সাপগুলি।”

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, তৃণমূল বুথগুলিকে দুর্গ বানিয়ে রেখেছে। তাঁর কথায়, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোট পড়ে। বলেন, “এই রাজ্যে পুরুষেরা সকালে গামছা পড়ে ভোট দেয়। দুপুরে প‍্যান্ট পড়ে ভোট দেয়। বিকেলে লুঙ্গি পড়ে ভোট দেয়। আর মহিলারা সকালে সালোয়ার কামিজ পরে ভোট দেয়। দুপুরে শাড়ি পরে ভোট দেয়। আর রাতে বোরখা পড়ে ভোট দেয়।” নির্বাচন কমিশন সঠিক জায়গাটি ঘরেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, এসআইআর ঘোষণা হতেই উত্তর ২৪ পরগণার কিছু এলাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। নিউটাউন এলাকার বেশ কিছু পালিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। একদিকে এসআইআরের বিরোধিতা রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুবাড়ি পর্যন্ত মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন‍্যদিকে, সোদপুর থেকে আগরপাড়া তেঁতুলতলা পর্যন্ত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ভোট যতই এগিয়ে আসছে রাজ্য রাজনৈতির পারদ ততই চড়তে আরম্ভ করেছে। তার মধ্যে আজ মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়ে গেছে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রসঙ্গত, শাসকদলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাই সুর চড়িয়ে বলেছিলেন রাজ্যে এসআইআর হতে দেবো না।


Share