Abhishek Banarjee

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের তৃণমূলের বিলবোর্ড সরানো নিয়ে আইনি লড়াই, হাই কোর্টের পর এ বার সুপ্রিম কোর্টে কালীঘাট শিবির

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আইনি লড়াই শুরু হয়। হাই কোর্টে অন্তর্বর্তী সুরাহা না মেলায় এ বার কালীঘাট শিবির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেল।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৩

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের বাইরে থাকা দলীয় নামাঙ্কিত বিলবোর্ড সরানো নিয়ে বিতর্ক এ বার সুপ্রিম কোর্টে গড়াল। কলকাতা হাই কোর্টে অন্তর্বর্তী নির্দেশ না মেলায় তৃণমূল শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ের বাইরে লাগানো তৃণমূলের বিলবোর্ডটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছে বলে দাবি করে সেটি খুলে দেন। বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে পুর আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পুরসভার কর্মীরা বিলবোর্ডটি খুলে ফেলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল কর্মীরা সেখানে নতুন ব্যানার লাগিয়ে দেন। তৃণমূলের দাবি, তাঁদের বক্তব্য শোনার কোনও সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি এবং বেআইনি ভাবে ওই বিলবোর্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আইনি লড়াই শুরু হয়। হাই কোর্টে অন্তর্বর্তী সুরাহা না মেলায় এ বার কালীঘাট শিবির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেল।

কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূলের তরফে আবেদন করা হয়েছিল, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ের বাইরে সরিয়ে দেওয়া বিলবোর্ডটি ফের আগের জায়গায় লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। তবে শুনানিতে ভবনের মালিক আদালতকে জানান, তাঁর অনুমতি না নিয়েই বিলবোর্ডটি ঝোলানো হয়েছিল।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ জানায়, বিলবোর্ডটি ইতিমধ্যেই খুলে ফেলা হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে সেটি পুনরায় লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হলে তা কার্যত চূড়ান্ত রায়ের সমান হয়ে যাবে। সেই কারণে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও পুর আধিকারিকদের নাম চেয়ে তৃণমূলের আবেদনের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত নথি আদালতের সামনে পেশ করা হয়নি বলে জানায় হাই কোর্ট। হাই কোর্টে আপাতত কোনও সুরাহা না মেলায় এ বার তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই শীর্ষ আদালতে গড়াল এই আইনি লড়াই। এরই মধ্যে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয়কে ঘিরে একের পর এক ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে অফিসে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় শাসকদল বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। যদিও পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে।

এরপর শুক্রবারই ফের ওই কার্যালয় ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে দমকল বিভাগ ভবনের বেসমেন্ট-সহ সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য, ওই দুই তলার মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল দফতর রয়েছে। ফলে বিলবোর্ড বিতর্কের পাশাপাশি দমকলের নির্দেশ নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানানো হয়েছে, বহুতলটির 'ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট'-এর মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই সার্টিফিকেটের পুনর্নবীকরণ করানো হয়নি। পরিদর্শনের পর দমকলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয় যে, বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও ভবনের ওই অংশগুলি ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।


Share