Accident

পুরোনো মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে মৃত্যু বৃদ্ধ দম্পতির, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল নাতি

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের শেখপাড়া এলাকায় পুরোনো মাটির বাড়ির একাংশ ধসে মৃত্যু হল বৃদ্ধ দম্পতির। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে সৈয়দ মনোয়ার আলি (৬২) ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬১)-এর মৃত্যু হয়।

ভেঙে পরেছে মাটির বাড়িটি
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫৬

পুরোনো মাটির বাড়ির একটি অংশ আচমকা ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধ দম্পতির। শুক্রবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার শেখপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের নাম সৈয়দ মনোয়ার আলি (৬২) এবং তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬১)। দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা তাঁদের নাতি কোনওরকমে প্রাণে বেঁচেছে। তাঁর নাম সৈয়দ ফারহান আনোয়ার (১৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির ভিতরে ছিলেন মনোয়ার, জাহানারা এবং তাঁদের নাতি ফারহান। আচমকাই দোতলা মাটির বাড়িটির একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে বৃদ্ধ দম্পতি চাপা পড়ে যান। ফারহানও কিছুটা চাপা পড়েছিল। তবে কোনও রকমে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সে চিৎকার শুরু করে। বিকট শব্দ এবং তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে ভরতপুর থানার পুলিশ, দমকল এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে উদ্ধারকাজে যোগ দেন ভরতপুরের এসডিপিও বরুণ বৈদ্য, সালারের সার্কেল ইনস্পেক্টর সমীরেন্দ্র পাল এবং ভরতপুর থানার ওসি বিশ্বজিৎ মণ্ডল-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মনোয়ার ও জাহানারাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁদের ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ফারহান জানায়, সে ঘরের মধ্যেই বসেছিল। তার দাদু শুয়ে ছিলেন। দাদি বসেছিলেন। একটি দরজা খোলার পরই আচমকা বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ে। কোনওমতে সে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মাটি সরিয়ে দাদু-দাদিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

ভরতপুরের এসডিপিও বরুণ বৈদ্য জানান, খবর পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ, দমকল, বিডিও অফিস এবং ডিজ়াস্টার টিম উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সাহায্য করেন। বিপজ্জনক বাড়িটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মানস শেখের দাবি, উদ্ধার করার সময় মনোয়ার আলি জীবিত ছিলেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। আর এক বাসিন্দা অপূর্ব দাস বলেন, রাখির দিনে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


Share