Body Recovery

স্ত্রীকে খুনের পর স্বামীর আত্মহত্যা স্বামীর! আউশগ্রামে একই বাড়ি থেকে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন‍্য হাসপাতালে পাঠাল পুলিশ

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের শিবদা আদিবাসীপাড়ায় একই বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে খুনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বামী।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২০

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে একটি মাটির বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরে প্রথমে স্ত্রীকে খুন করা হয়। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামী নিজে আত্মঘাতী হন। আউশগ্রামের শিবদা আদিবাসী পাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম সুকুল হেমব্রম এবং সরস্বতী হেমব্রম। শুক্রবার তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সুকুল ও সরস্বতীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর সুকুল ছেলেমেয়েদের বাইরে খেলতে যেতে বলেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিছুক্ষণ পর ছোট মেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে বাবাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করে। মাটির বাড়িটির দোতলায় উঠতেই সে বাবার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কে মেয়েটি চিৎকার করে ওঠে।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সুকুলের দেহ দেখতে পান। তবে সেই সময় সরস্বতীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি চালায়। তখনই নীচতলার একটি ঘর থেকে সরস্বতীকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে দ্রুত গুসকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সরস্বতী লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ১৪ বছর আগে সুকুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

ঠিক কী কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অশান্তির জেরেই সুকুল প্রথমে স্ত্রী সরস্বতীকে খুন করেন এবং পরে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।


Share