Nepal Flash Flood

ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গে আর কেউ নেই, নিশ্চিত উদ্ধারকারীরা! দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর বন্ধ হল তল্লাশি

দীর্ঘ তল্লাশির পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেখানে আর কোনও শ্রমিক আটকে নেই। সেই কারণেই আপাতত ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নেপাল
  • শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৫

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আর কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার দুই শ্রমিককে উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধারকারীরা এমনটাই নিশ্চিত করেছেন। ফলে ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজও শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনী (এপিএফ)-এর সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল ত্রিশূলীর ওই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। দলের নেতৃত্বে ছিলেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। নেপালি সেনার একটি দলও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত জানান, পুরো প্রকল্প এলাকা কাদা ও মাটিতে কার্যত ঢেকে গিয়েছে। কোথাও কোথাও জমে রয়েছে বড় বড় পাথরও। তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতরে হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়েছিলেন। কিন্তু যতদূর তাঁরা গিয়েছেন, সর্বত্রই কাদা ও মাটির স্তূপ দেখতে পেয়েছেন। উদ্ধারকারীদের দাবি, ভয়াবহ হড়পা বানের জলের প্রবল স্রোতে সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে। ফলে ভিতরে ঢুকে আরও তল্লাশি চালানোর সুযোগ কার্যত নেই। দীর্ঘ তল্লাশির পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেখানে আর কোনও শ্রমিক আটকে নেই। সেই কারণেই আপাতত ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ অগস্ট সকালে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নামে। সেই সময় নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ছ’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। প্রতিটি প্রকল্পেই সুড়ঙ্গ কেটে মাটির নীচে পাওয়াহাউস তৈরি করা হয়েছিল। প্রবল বানের জেরে সবক’টি প্রকল্পই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের সংবাদমাধ্যমের দাবি, শুধুমাত্র বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। নেপালি সেনা ও পুলিশের আধিকারিকেরা কাদা, মাটি ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ চালাতে থাকেন। দুর্যোগের ন’দিন পর অবশেষে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারকারীরা আরও এক শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করেন। তবে এখনও বহু শ্রমিকের কোনও সন্ধান মেলেনি। ফলে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।

ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার উদ্ধার করা দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন। তাঁদের উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরও কয়েক জনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছিল। সেই খবরের ভিত্তিতে উদ্ধারকারীরা ফের সুড়ঙ্গে ঢুকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালান। তবে দীর্ঘ খোঁজের পর তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেখানে আর কেউ আটকে নেই। উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সঞ্জয় জানান, হড়পা বান আসছে জানতে পেরে তিনি প্রথমে ভিতরে থাকা অন্য শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁর বেরোতে দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নিজেই সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েন।

এ দিকে, নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। শুক্রবার পর্যন্ত বিপর্যয়ে এক হাজার ২৮৭টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পাঁচ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Share