Murder Case

শালকিয়ার ফ্ল্যাটে রহস্যমৃত্যু, বালিশ চাপা দিয়ে খুনের সন্দেহে, আটক দুই নাবালক

হাওড়ার শালকিয়া এলাকায় একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে মাঝবয়সী এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ দুই নাবালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শালকিয়া
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৩৫

হাওড়ার শালকিয়া এলাকায় এক আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ দুই নাবালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শালকিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম দেবব্রত দাস (৪৮)। তিনি শালকিয়ার কৈবর্ত্যপাড়া লেন এলাকার একটি ছ’তলা আবাসনের চারতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। সোমবার সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকেই প্রথমে ঝগড়াঝাঁটির আওয়াজ পাওয়া যায়। কিছু ক্ষণ পর প্রতিবেশীরা সেখান থেকে শব্দ শুনতে পান। ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে। বাসিন্দারা একাধিক বার দরজা খোলার চেষ্টা করলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। কিছু সময় পর হঠাৎই আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়।

বিপদের আঁচ করতে পেরে বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখে পড়ে। মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল দেবব্রত দাসের নিথর দেহ। তাঁর মুখ, কান এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। সেই সময় ঘরের মধ্যেই আরও দু’জন কিশোরকে দেখতে পান প্রতিবেশীরা। একজন ছিলেন ফ্ল্যাটের বারান্দায়। সে আবাসনের সেক্রেটারি পিন্টু দাসের ছেলে। অন্যজনকে খাটে শুয়ে মৃদু স্বরে গোঙাতে দেখা যায়। সে পিন্টু দাসের বন্ধু। জানা যায়, ওই দু’জনই নাবালক। ঘটনার খবর পেয়ে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেবব্রত দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, খাটে শুয়ে থাকা কিশোরের শারীরিক পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, তার শরীরে কোনও গুরুতর আঘাত নেই। পুলিশ সূত্রে সন্দেহ, নিজেকে আড়াল করতেই সে অসুস্থতার ভান করছিল। পাশাপাশি দুই নাবালকের বয়ানেও একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বালিশ চাপা দিয়ে দেবব্রত দাসকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তার আগে ঘরের ভিতরে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। মৃতের মাথার পিছন সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। প্রশ্ন উঠছে, সোমবার সকালে দেবব্রত দাসের ফ্ল্যাটে ওই দুই নাবালক কী কারণে উপস্থিত ছিল? কোনও বচসা থেকেই কি এই খুন, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জানা গিয়েছে, দেবব্রত দাস একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় দশ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে মামাবাড়িতে থাকে। দেবব্রতের বৃদ্ধা মা সাধারণত তাঁর সঙ্গেই থাকতেন। তবে ঘটনার সময় তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগেই কি এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরো ঘটনার পেছনের কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ।


Share