Murder and Suicide

কুলটিতে পারিবারিক অশান্তির জেরে ঝড়ল রক্ত, মাকে গুলি করে আত্মঘাতী ছেলে

অভিযোগ, মা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে গুলি করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হন ছেলে রাজা মুখোপাধ্যায়। দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও মা-ছেলের মৃত্যু হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৪

পশ্চিম বর্ধমান আসানসোলের কুলটি থানা এলাকার কলেজ রোডের রামকৃষ্ণ সরণি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির জেরে ঝড়ল রক্ত। মাকে গুলি করে খুনের পর আগুন লাগিয়ে নিজে আত্মঘাতী হল ছেলে। মৃত দু’জন নাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়(৭১) এবং তাঁর ছেলে রাজা মুখোপাধ্যায়(৫২)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়  নিজের বাড়িতেই গুলিবিদ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হন। অভিযুক্ত রাজা মুখোপাধ্যায় একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে কর্মহীন ছিলেন। কাজ না থাকায় তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সেই চাপই ক্রমশ প্রভাব ফেলছিল পরিবারে। স্থানীয় সূত্রের খবর, চাকরি নিয়ে গত ছ’মাস ধরে সংসারে অশান্তি লেগেই ছিল। ঘরে ফিরলেই ঝগড়া-বিবাদ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বুধবার রাতে সেই অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযোগ, রাজা তাঁর বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায়কে মারধর করেন। প্রাণভয়ে দয়াময়বাবু বাড়ি ছেড়ে পুরুলিয়ার কাশীপুরে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ফের মা-ছেলের মধ্যে তীব্র বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, অশান্তি বাড়তেই মায়ের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে গুলি চালান। উল্লেখ্য, নিজের কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এরপর রাজা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।

আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা দমকল ও পুলিশে খবর দেন। কুলটি থানার পুলিশ এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাড়ির ভিতর থেকে দু'জনকে গুলিবিদ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা দেবীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাজাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই ভয়াবহ পরিণতি হয়ে থাকতে পারে। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে এক পুলিশ আধিকারিক।

স্থানীয়দের কথায়, “প্রতিদিনই ঝগড়া শুনতাম, কিন্তু এমন পরিণতি হবে ভাবিনি।” একইসাথে স্ত্রী ও ছেলেকে হারিয়ে সর্বশান্ত বৃদ্ধ দয়াময় মুখোপাধ্যায়।


Share