RG Kar Medical

পা কাটা থেকে রক্ষা! আরজি করে অ্যালোগ্রাফটে আড়াই বছরের লড়াইয়ে জয়ী ৩১ বছরের যুবক

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বিরা এলাকার ৩১ বছর বয়সী দিনমজুর রিজাউদ্দিন মণ্ডল ২০২৩ সালে ট্রাক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। ডিস্টাল ফিমার হাড় ভেঙে চামড়া ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল এবং হাঁটুর সংযোগস্থলের হাড় কার্যত গুঁড়িয়ে যায়।

আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪২

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ের উরুর হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একাধিক অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও হাঁটুর ঠিক উপরের ফিমার হাড় পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে হাঁটুর উপর থেকে পা কেটে ফেলাই একমাত্র উপায় হয়ে উঠছিল। প্রায় আড়াই বছরের দীর্ঘ ও ব্যর্থ চিকিৎসা ও লড়াইয়ের পর অবশেষে মিলল সাফল্য। নিজস্ব তহবিল থেকে দু'লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করে শবদেহ থেকে সংরক্ষিত হাড়ের টুকরো (অ্যালোগ্রাফট) হায়দরাবাদ থেকে এনে যুবকের পায়ে প্রতিস্থাপন করলেন আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার হওয়া এই জটিল অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। চিকিৎসকদের আশা, যুবক স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে পাবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পূর্ব ভারতে এমন অ্যালোগ্রাফটিং এই প্রথম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বিরা এলাকার ৩১ বছর বয়সী দিনমজুর রিজাউদ্দিন মণ্ডল ২০২৩ সালে ট্রাক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। ডিস্টাল ফিমার হাড় ভেঙে চামড়া ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল এবং হাঁটুর সংযোগস্থলের হাড় কার্যত গুঁড়িয়ে যায়। ওই বছরের মে মাসে প্রথম অস্ত্রোপচারে হাড় জোড়া দেওয়া হয়। জুনে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মাংসপেশি ও ত্বক মেরামত করা হয়। অগস্টে ফের হাড়ের অস্ত্রোপচার করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। ২০২৪ সালের জুলাইয়েও পুনরায় চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ধীরে ধীরে হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে তাঁর পক্ষে।

অবশেষে চিকিৎসকেরা অ্যালোগ্রাফটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। আরজি করের অর্থোপেডিক সার্জেন সুনীত হাজরা জানান, এই অবস্থায় তাঁদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল অ্যালোগ্রাফটের মাধ্যমে হাড় পুনর্গঠন অথবা পা কেটে ফেলা। রোগীর বয়স কম হওয়ায় হাঁটু সংরক্ষণই ছিল প্রধান লক্ষ্য। অ্যালোগ্রাফট হল শবদেহ থেকে সংগৃহীত হাড় বা টিস্যু, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বড় আকারের হাড়ের ঘাটতি পূরণে এটি কার্যকর পদ্ধতি, বিশেষত যখন রোগীর নিজের হাড় দিয়ে পুনর্গঠন সম্ভব হয় না।

তবে ফ্রেশ ক্যাডাভেরিক অ্যালোগ্রাফট অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দুর্লভ। হাসপাতাল প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় দু'লক্ষ ৪০ হাজার টাকার গ্রাফট হায়দরাবাদ থেকে সংগ্রহ করা হয়। সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে থ্রিডি মডেল তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গ্রাফট কলকাতায় আনা হয়। গত মঙ্গলবার সফলভাবে অ্যালোগ্রাফট ফিক্সেশনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু এ রাজ্যেই নয়, গোটা পূর্ব ভারতে এই অপারেশন এর আগে হয়নি।’ অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান সঞ্জয় কুমার এই সাফল্যের জন্য অর্থোপেডিক ও অ্যানাস্থেশিয়া দলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। চিকিৎসকদের আশা, এই জটিল পুনর্গঠনের ফলে রিজাউদ্দিন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং তাঁর হাঁটু সক্রিয় থাকবে।


Share