Murder

এসআইআর শুনানির নামে ডেকে মৃত্যু ফাঁদ, বাদুড়িয়াতে নিখোঁজ নাসির আলির দেহাংশ উদ্ধার হল খাল থেকে

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত রিজওয়ান বাদুড়িয়ার পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও। মৃত নাসির আলির বাড়িও পাপিলাতে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে নাসির নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই দিন সন্ধ্যায় নাসিরের কাছে একটি ফোন আসে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট
  • শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:১১

ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানিতে ডাক পড়েছে অধিকাংশেরই। তেমনই এই শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সের নাসির আলি নামে এক যুবক। নিজেকে বিএলও পরিচয় দিয়ে যুবককে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এক ব্যক্তি। এই ঘটনার তিনদিন পরে একাধিক প্যাকেট বন্দি নিখোঁজ যুবকের টুকরো করা দেহাংশ মিলল। এই হাড়হিম ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের বাদুড়িয়ার। এই রাজ্যে বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত রিজওয়ান বাদুড়িয়ার পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও। মৃত নাসির আলির বাড়িও পাপিলাতে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে নাসির নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই দিন সন্ধ্যায় নাসিরের কাছে একটি ফোন আসে। তাঁকে বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত কারণে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে এখনই তাঁকে দেখা করতে হবে। যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি নিজেকে ইআরও বলে পরিচয় দেন। সেই ফোন পাওয়ার পরেই নাসির সমস্ত নথি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই যুবক আর বাড়ি ফেরেননি। গত সোমবার থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনও বন্ধ ছিল। সোমবার রাতেই পরিবারের সদস্যরা বাদুড়িয়া থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলবার সারাদিন খোঁজাখুঁজি করা হয়। এরপর চাতরা এলাকার যমুনা খাল থেকে নাসিরের মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়। কিন্তু তার কোনোও খোঁজ পাওয়া যায় না। গত বুধবার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ান এবং সাগর গাইন নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়। তাঁদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, নিহত নাসির আলির স্ত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত বিএলও-এর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, সে কারণেই খুন করা হয়েছে নাসির আলিকে। নিহত যুবকের পরিবারের দাবি, গত সোমবার এইআরও-র নাম করে এসআইআর-এর নথি চেয়ে ফোন আসে বাড়িতে। সেইমতো নথি হাতে তড়িঘড়ি বা়ড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির আলি। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

এ দিকে, পুলিশ ধৃত বিএলও-কে জিজ্ঞাসাবাদের পরে বাদুড়িয়ার বিভিন্ন ব্রিজের তলা এবং খালে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশিতেই খাল থেকে তিনটি প্যাকেটে নাসিরের দেহাংশ উদ্ধার হয় তিন জায়গা থেকে। কেন নাসিরকে নৃশংস ভাবে খুন করা হলো, তা বুঝতেই পারছেন না পরিবারের সদস্য থেকে স্থানীয়েরা। মৃতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবি বলেন, ‘আমার স্বামীর কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না। ঝগড়া ছিল না। রিজওয়ান আমার স্বামীর বন্ধু ছিল। ও কেন এমন করল জানি না। ওর কঠোর শাস্তি চাই।’ কেন নাসিরকে খুন করা হলো? নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।


Share