Madhyamik Exam

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘ঐরাবত গাড়ি’, হাতির তান্ডব থেকে বাঁচতে বন দফতরের নতুন উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুরে

বন দফতরের তরফ থেকে জঙ্গল লাগোয়া পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে যাতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয় তার জন্য বন দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাখা হয়েছে ঐরাবত গাড়ি।

জঙ্গলের রাস্তায় সাইরেন বাজিয়ে রোখা হচ্ছে হাতির হানা
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৮

সোমবার থেকে সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পূর্ণ করা যায় সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ আবহেই পশ্চিম মেদিনীপুরে দলবদ্ধ হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক কথায় বলা যায়, হাতিই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বর্তমান বাসিন্দা। এর হাতির তান্ডবের ফলে পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে পারে তার জন্য বন দফতর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বন দফতরের তরফ থেকে জঙ্গল লাগোয়া পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে যাতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয় তার জন্য বন দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাখা হয়েছে ‘ঐরাবত গাড়ি’।

উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৫৮ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৮ হাজার ৪৭ জন, ছাত্রী ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন। পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে ১২০ টি।

পাশাপাশি, জলপাইগুড়িতেও হাতির হানা দেখা যায়। সেই কারণেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য তিনটি গাড়ির ব্যবস্থা করেছে বন দফতর বলে জানা গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার্থীদের হলে পৌঁছে দিতে পশ্চিম মেদিনীপুরেও বনদফতর উদ্যোগী হয়েছে।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া জেলায় বন দফতরের উদাসীনতার কথা উঠে আসছে। বাঁকুড়ার কালপাইনি-সহ বহু গ্রামে হাতির হানার বিষয় উঠে আসে। প্রত্যেক বছর বন দফতরের কার্যকারীতার কথা শোনা গেল এবার ভিন্ন রূপ দেখা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নজির ভেঙে বন দফতর এ বারই প্রথম ওই গ্রামগুলির মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি। প্রতিবছর বন দফতরের সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেন।

এর ফলে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের তিন থেকে চার কিলোমিটার জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে স্থানীয় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছোতে হচ্ছে। আর তাতেই অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হচ্ছেন।

যদিও এ বিষয়ে কিছু বলেননি বন দফতরের আধিকারীকেরা। স্থানীয় বড়জোড়ার বিধায়ক অবশ্য দাবি করেছেন, পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। যদি কোথাও ফাঁকফোঁকর থেকে থাকে তা নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা।


Share