Balurghat High School

অশালীনতার অভিযোগে উত্তাল স্কুল, ছাত্রীর সামনে কান ধরে ওঠবস, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে তোলপাড় বালুরঘাট হাই স্কুল

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে একাদশ শ্রেণির একটি ক্লাসে এই ঘটনা ঘটে। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কান ধরে ওঠবস করছেন। পরে তাঁকে এক ছাত্রীর সামনে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৩

শিক্ষাগুরুকে ঈশ্বরতুল্য মর্যাদা দেওয়ার প্রথা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বহু প্রাচীন। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠল অশালীন আচরণের অভিযোগ। অভিযোগের জেরে ক্লাসরুমেই অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল তাঁকে। সহপাঠীদের সামনে কান ধরে ওঠবস করতে দেখা যায় ওই শিক্ষককে। এমনকি এক ছাত্রীর সামনে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করার পর তাঁকে চড় মারার ঘটনাও ধরা পড়েছে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের শহরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বালুরঘাট হাই স্কুলে।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে একাদশ শ্রেণির একটি ক্লাসে এই ঘটনা ঘটে। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক শিক্ষক  শ্রেণিকক্ষে কান ধরে ওঠবস করছেন। পরে তাঁকে এক ছাত্রীর সামনে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। উঠে দাঁড়ানোর পর ওই ছাত্রী তাঁকে চড় মারেন। উপস্থিত অন্যান্য পড়ুয়ারা মোবাইলে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, ইংরেজি বিষয়ের ওই শিক্ষক একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অশালীন বার্তা ও কুপ্রস্তাব দেন। ছাত্রী বিষয়টি পরিবার ও সহপাঠীদের জানালে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষক ক্লাস নিতে এলে পড়ুয়ারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এক সময় এই স্কুলে শুধুমাত্র ছাত্ররাই পড়াশোনা করত। প্রায় তিন বছর আগে থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্রীদের ভর্তি শুরু হয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৃজিত সাহা জানান, ‘সম্প্রতি বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বর্তমানে একাদশ ও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা চলছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি সুভাষ চাকি বলেন, ‘সম্প্রতি বিষয়টি আমাদের সামনে এসেছে। গোটা ঘটনা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অন্যদিকে, জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সুজয় কৃষ্ণ মহন্ত জানান, ‘বিষয়টি জানা নেই। এ নিয়ে কেউ অভিযোগও করেননি। তাও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


Share