Chor Bagan Incident

চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত, তলব থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে, ডাকা হল ৩ প্রত্যক্ষদর্শীকেও

বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, নির্মাণের সময় নিরাপত্তার বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিল্পীর বয়ান রেকর্ড করতে চান তদন্তকারীরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১০

চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ। এ বার তদন্তকারীদের নজরে মণ্ডপের থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। মণ্ডপের নকশা, নির্মাণপদ্ধতি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে তাঁকে তলব করেছে লালবাজার। বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, নির্মাণের সময় নিরাপত্তার বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিল্পীর বয়ান রেকর্ড করতে চান তদন্তকারীরা।

তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এমন তিন প্রত্যক্ষদর্শীকেও ডেকেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিপর্যয়ের মুহূর্তের পরিস্থিতি, ভিড়ের চাপ এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় কর্তব্যরত ১২ জন পুলিশকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং বিপর্যয়ের সময় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার।

উল্লেখ্য, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে প্রবল ভিড়ের চাপে বিপর্যয় ঘটে। মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ার অভিযোগের পাশাপাশি পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃতদের মধ্যে ১৭ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং দু’জন ভিন্‌রাজ্যের। কী ভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তার নেপথ্যে কোনও অব্যবস্থা বা গাফিলতি ছিল কি না, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

তদন্তে ইতিমধ্যেই মণ্ডপে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জন ঘোষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে। একই সঙ্গে পুজো কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতা হাই কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বেও তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মণ্ডপের স্রষ্টা সুশান্ত শিবানী পাল শোকপ্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর নকশায় তৈরি মণ্ডপ দেখতে এসে এত মানুষের মৃত্যু হওয়ায় তিনি মর্মাহত। এ বার তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বয়ান মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি সামনে আনতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তবে মণ্ডপ নির্মাণে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, কিংবা দুর্ঘটনার জন্য কারও গাফিলতি দায়ী কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


Share