Assault

প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বাবা ও দুই ছেলেকে মারধর, বিবস্ত্র করে হাঁটানোর হল রাস্তায়, দেখানো হয়েছে অস্ত্র, গ্রেফতার দু’জন

রতন মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় মামলা রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এবং অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(এ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪৩

প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যুবক ও তাঁর বাবা-বন্ধুকে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠল বেহালার সরশুনায়। একই অপরাধে যুবককে খুন করতে হাতে বন্দুকও ধরানো হয় বলে অভিযোগ। পরিবার তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরেই তিন জনকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানো হয়েছে। ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বেহালার সরশুনায় ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, রোহিত মালিক নামে এক যুবক তাঁর বন্ধু রুদ্র দাসকে (১৯) সঙ্গে নিয়ে সরশুনা থানা এলাকার খালপাড় মাঠের কাছে ১৩ বছরের এক নাবালিকার সঙ্গে দেখা করতে যান। অভিযোগ, কথাবার্তার সময় রোহিত ওই নাবালিকাকে চুম্বন করেন। ঘটনাটি নাবালিকার এক কাকার বন্ধুর নজরে পড়ে। ওই ব‍্যক্তি বিষয়টি নাবালিকার মামা রাহুল বর্মন এবং বাবা প্রদীপ সরকারকে জানান।

খবর পেয়ে প্রদীপ সরকার ও রাহুল বর্মন দুই যুবককে খুদিরামপল্লিতে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একটি ঘরে দু’জনকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ, সেখানে রোহিত ও রুদ্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এরপর রোহিতকে তাঁর বাবাকে ডেকে আনতে নিদান দেওয়া হয়।  এই সময় রাহুল বর্মন তাঁর দলবলকে প্রদীপ সরকারের বাড়িতে ডাকেন।

তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই রোহিতের বাবা রতন মালিক সেখানে পৌঁছোন। তাঁকেও সেখানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, নাবালিকার মামা রাহুল বর্মন আক্রান্ত যুবক রোহিতের বাবার হাতে বন্দুক তুলে দেওয়া হয়। নিজের ছেলেকে গুলি করে হত‍্যা করার জন‍্য নিদান দেয় দুষ্কৃতীরা। এর পরেই রোহিত মালিক, তাঁর বাবা রতন মালিক এবং তাঁর বন্ধু রুদ্র দাসকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। বাড়ির সামনের গলিতে প্রায় ৫০ মিটার তাঁদের নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ।

রতন মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় মামলা রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এবং অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(এ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনায় নাবালিকার বাবা প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন ওরফে ভূলু এবং মা রিঙ্কু সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। আক্রান্ত দুই যুবকের চিকিৎসা করানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েক জন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই সমাজমাধ‍্যমে ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। তার পর থেকেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। খাস কলকাতা এমন ঘটনায় পরে কার্যত বিস্মিত সবাই। উত্তেজিত জনতা নাবালিকার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় সরশুনা থানার পুলিশ। 


Share