ByElection

মিলনের রক্ষাকবচ মামলায় একক বেঞ্চের রায় নিয়ে বিস্মিত কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি, জামিন নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেস প্রার্থীকে

গত পড়শু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ নির্দেশ দেন, নতুন কোনও মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:০৭

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নতুন মামলায় রক্ষাকবচ রইল না। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “একক বেঞ্চ কী ভাবে এই নির্দেশ দিতে পারে? এই নির্দেশ দেখে আমি বিস্মিত।” কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নতুন করে জামিনের জন্য আবেদন করতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট।

গত পড়শু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ নির্দেশ দেন, নতুন কোনও মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য। শুক্রবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেন তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেননি, অথবা গ্রেফতারির পরে কেন জামিনের আবেদন করেননি? তিনি আরও জানান, একজন আইনের ছাত্র হিসেবে আইন কঠোর ভাবে মেনে চলবেন তিনি।

শুক্রবারের শুনানিতে মিলনের আইনজীবী দাবি, তাঁর মক্কেলকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল সমর্থন করার কথা ঘোষণা করার পরে ‘পরিস্থিতি বদলে যায়।’ আইনজীবী সওয়ালে বলেন, “আমার মক্কেল উপনির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেন। তার পরে সবই ঠিক ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অন্য এক বিরোধী দল সমর্থন করার থেকেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর কয়েক দিন পরেই ভোটগ্রহণ। তিনি যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন সেই কারণে ওই পদক্ষেপ (রক্ষাকবচের আবেদন)।”

তিনি আরও বলেন, ভোটের মুখে নতুন মামলায় জামিন নেওয়ার জন্য সময়ের অভাব। সেই কারণে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। তখন মিলনের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার সওয়াল শুনে বলতে হচ্ছে, এটা জামিনের জন্যই উপযুক্ত মামলা। আপনার জামিনের আবেদন করা উচিত। নির্বাচনের জন্য সময় আছে। ছুটির দিনেও আদালত বসতে পারে। শনিবার বা রবিবারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া থেমে থাকে না।” তিনি আরও বলেন, “বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন আমি ১৫ অগস্ট মামলা শুনেছি। ওই দিন এক ব্যান্ডমিন্টন খেলোয়াড়ের আবেদন ছিল। খেলার বিষয়। আদালত বসাতেই হত।”

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান নির্বাচনে লড়তেই পারেন। কিন্তু আইনকে এড়িয়ে নয়। নির্বাচনে লড়াই করছেন বলে তিনি বিশেষ ব্যক্তি নন। আইনের চোখে সকলে সমান। সেখানে ভিআইপি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “আপনি ভগবান নন। প্রত্যেক সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। আপনি বিশেষ কেউ নন। জামিনের আবেদন করুন। আইনে যা বলা আছে আমরা তা মেনে চলতে বাধ্য। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইন সমান। নির্বাচনের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার কোনও বিরোধ নেই।”

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, মিলনকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে অতিরিক্ত মামলাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে তাঁকে ১৯ সেপ্টেম্বরই গ্রেফতার করা হয়। আদালত ২২ তারিখ নির্দেশের পরে নতুন করে গ্রেফতার করা হয়নি।


Share