Unusual Death

দত্তপুকুরে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ পরিবারের

মৃতার পরিবার স্বামী পঙ্কজ দাসের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেছে। যদিও শ্বশুরবাড়ির তরফে একে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৫

দাম্পত্য অশান্তির জেরে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে। স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের। তাঁদের দাবি, মারধরের পর শ্বাসরোধ করে গৃহবধূকে খুন করা হয়েছে। যদিও শ্বশুরবাড়ির তরফে একে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত বামুনগাছি এলাকায় ঘটেছে। মৃত গৃহবধূর নাম মল্লিকা মোহান্ত (৪১)। তাঁর স্বামী পঙ্কজ দাসের বিরুদ্ধে মৃতার পরিবার দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২১ বছর আগে বামুনগাছির বাসিন্দা পঙ্কজ দাসের সঙ্গে মল্লিকার বিয়ে হয়। তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। সে আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল। এইকথা মল্লিকা একাধিকবার বাপের বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি মল্লিকা শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সঙ্গে পুরীতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তবে স্বামী পঙ্কজ তাঁদের সঙ্গে যাননি। অভিযোগ, ওই সময় তিনি অন্যত্র ঘুরতে যান। তাঁকে ফোন করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন সুইচড অফ ছিল। সেই থেকেই পঙ্কজের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। মৃতার পরিবারের দাবি, স্বামীর ওই সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। সেই অশান্তির মধ্যেই মল্লিকাকে মারধর করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

মৃতার দাদা আশিস মোহান্ত বলেন, “আগেও অশান্তি ও মারধর হয়েছে, কিন্তু তখনও আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। ওর মেয়ে আগামী বছর মাধ্যমিক দেবে। সেই অবস্থায় ও কোনওভাবেই আত্মঘাতী হতে পারে না। পঙ্কজই ওকে খুন করেছে।” মৃতার বৌদি বিজলি মোহান্তের অভিযোগ, “শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছে মল্লিকা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ওর গলায় কোনও ফাঁসের দাগ ছিল না। স্পষ্টতই ওকে খুন করা হয়েছে।” অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, মল্লিকা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই মৃত্যুর পিছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।

দত্তপুকুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত স্বামী পঙ্কজ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।


Share