Terror Funding

‘বস’-এর সঙ্গে যোগাযোগের পর দু’হাজার ডলার ক্রিপ্টো মাধ‍্যমে লেনদেন, কোচির সিনাগগে অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্তে নতুন মোড়

তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইবিন পি পল মাদকাসক্ত ছিল। তাঁদের সন্দেহ, ইবিন পি পল বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিল। তাঁর মোবাইল ফোন ও সমাজমাধ‍্যমের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

অভিযুক্তের নাম ইবিন পি পল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচি
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩০

কোচির সিনাগগে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্তে গতি বাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। গত ১২ অক্টোবরের ওই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ইবিন পি পলের সঙ্গে ক্রিপ্টো লেনদেনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে ‘বস’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর পর অভিযুক্তের কাছে ২,০০০ আমেরিকান ডলার ক্রিপ্টোর মাধ্যমে এসেছে।

গত ২৯ অক্টোবর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) প্রয়োগের পর এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, অনলাইন ‘বস’ নামে ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় জানা, বিদেশি অর্থের উৎস খুঁজে বের করা এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর ইসলামিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা।

বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতিমধ্যেই ওই ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আমেরিকান ডলার লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত টেলিগ্রামের মাধ্যমেও ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো পাঠিয়েছিল। বিদেশ থেকে আসা ক্রিপ্টোর উৎস জানতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা, ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনআইএ। কে বা কারা ওই টাকা পাঠিয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে কোনও ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইবিন পি পল মাদকাসক্ত ছিল। তাঁদের সন্দেহ, ইবিন পি পল বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিল। তাঁর মোবাইল ফোন ও সমাজমাধ‍্যমের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এই ঘটনার পিছনে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া এবং দেশের আরও কয়েকটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আয়তায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা করার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ইবিন পি পলকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা এনআইএ নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয় বিদেশ থেকে আসা অর্থের উৎস এবং অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের পরিচয় তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন। অন্য দিকে, বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) আগেই জঙ্গি দমন শাখাকে তদন্তভার গ্রহণ করতে পারে বলে জানিয়েছিল।

অভিযুক্তের কাজকর্মের ফলে দেশের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট II-এর আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল পুলিশ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইবিন পি পলের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-র ১৬(১)(বি) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে, কেরলের এরনাকুলাম জেলার মুভাট্টুপুঝা থানায় ইবিন পি পলের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং অন্যটি একটি পুরনো গাড়ির শোরুমে আগুন লাগানোর অভিযোগে এই মামলাগুলি রুজু করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে মহারাষ্ট্রের পুনেতেও পৌঁছেছে পুলিশ। পুনের সিম্বায়োসিস ইন্টারন্যাশনাল (ডিমড ইউনিভার্সিটি)-তে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন ইবিন পি পল। সেই সূত্রে তাঁর কলেজের অধ্যাপক, সহপাঠী এবং পুরনো পরিচিতদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তের অতীত, যোগাযোগ এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

এনআইএ এই মামলার তদন্তভার নেওয়ায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ইহুদি-বিরোধী মনোভাব, ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা এবং কেরলামের জঙ্গি সংগঠনগুলির সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়গুলি সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকেরা। এখন তদন্তকারীদের নজর বিদেশি অর্থের উৎস এবং অভিযুক্তের সঙ্গে যুক্ত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটনের দিকে।


Share