BJP Worker Death

মেমারিতে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ

অভিযোগ, তৃণমূল নেতা এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলছিলেন সুদীপ্তর বিরুদ্ধে। সেই মানসিক চাপেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৬:৪৫

পূর্ব বর্ধমানে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার বোহার পঞ্চায়েতের অযোধ্যা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম সুদীপ্ত মণ্ডল (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

এলাকার তৃণমূলের স্থানীয় নেতা অরবিন্দ মণ্ডল।সুদীপ্তর পরিবারের দাবি, তাঁর অপবাদের জেরেই সুদীপ্ত আত্মঘাতী হয়েছেন। অভিযোগ, প্রতিবেশী এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁকে দিনের পর দিন মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছিল। পাশাপাশি জমি লিখে দেওয়ার জন্য জোর করে হচ্ছিল। এমনকি ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার দাবি করেন। ঘটনার পর অরবিন্দ মণ্ডল বাড়িতে তালা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

মৃতের দাদা সুব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, পাড়ার দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে সুদীপ্ত অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপরই তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। জেলও খাটতে হয়। পরে বিজেপির বুথ সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরনো মামলার বিষয়ে সুদীপ্ত তৎপর হন। পরিবারের তরফে দাবী, সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছড়ানো শুরু হয়।

সুদীপ্তর স্ত্রী পায়েল মণ্ডলও একই অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে একটি মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী নির্দোষ ছিলেন। সামাজিক অপমানের আশঙ্কাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেশীদের একাংশও মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তৃণমূল নেতা যুক্ত ছিলেন।

ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ জানিয়েছেন, পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্য দিকে জেলা তৃণমূলের সম্পাদক বাগবুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা উচিত।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরিবারের তোলা অভিযোগগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share