Suicide

প্রেমের সিদ্ধান্তে বাধা পরিবারে, মানতে না পেরে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে আত্মঘাতী কিশোর এবং কিশোরী

সে বিক্রমের বাড়িতে গিয়েছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বিষয়টি পরিবারের কেউ বুঝতে পারেননি।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৭:৩৭

একজনের বয়স ১৬ অন্য জনের ১৪। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল কিশোর-কিশোরীর। কিন্তু এই প্রেমের সম্পর্কে পরিবারের আপত্তি ছিল। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কিশোর- কিশোরী আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ। একই ঘর থেকে পুলিশ তাদের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার কুঁদো গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

মৃতদের নাম বিক্রম মাজি (১৬) এবং নন্দিনী মাজি (১৪)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা ছিল। নন্দিনী শিমুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বিক্রম পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল। পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুই পরিবারই তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে। কারণ দু’জনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। তবে পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তারা সম্পর্ক থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি।

পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে দু’জনেই নিজেদের বাড়িতে ছিল। পরে গভীর রাতে নন্দিনী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সে বিক্রমের বাড়িতে গিয়েছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বিষয়টি পরিবারের কেউ বুঝতে পারেননি।

প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরে কাজে যাওয়ার জন্য বিক্রমকে তাঁর মা ডাকতে যান। মায়ের নাম তাপসী মাজি। কিন্তু বারবার ডাকাডাকির পরও ভিতর থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তখন তাঁর সন্দেহ হয়। জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারতেই ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এরপর প্রতিবেশীদের ডেকে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করা হয়। একই কাপড়ের ফাঁসে ঝুলছে বিক্রম ও নন্দিনী।

ঘটনাস্থলে আরও একটি বিষয় সকলকে স্তম্ভিত করে দেয়। দেখা যায়, নন্দিনীর সিঁথিতে সিঁদুর পরানো রয়েছে। সেই দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা শোকাহত হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দুটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলি পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় দুই পরিবারই গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।


Share