Mysterious Death

বাগুইআটিতে দিনেদুপুরে বাড়িতে লুটপাট, শয্যাশায়ী যুবকের দেহ উদ্ধার! খুনের সন্দেহ, তদন্তে পুলিশ

রবিবার সকালে ঘটনার সময় বাড়িতে একাই ছিলেন বলরাম। তাঁর মা পরিচারিকার কাজে বেরিয়েছিলেন। বাবা মাছ বিক্রি করতে গিয়েছিলেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগুইআটি
  • শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৫

বাগুইআটিতে দিনেদুপুরে গৃহস্থের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ। আর সেই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল শয্যাশায়ী এক যুবকের দেহ। মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। লুটপাটের সময়েই ওই যুবককে খুন করা হয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।

মৃতের নাম বলরাম রাজবংশী (৩১)। বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকায় বাবা-মা ও দাদার সঙ্গে থাকতেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বলরাম বছর দুয়েক ধরে অসুস্থ ছিলেন। বাড়িতেই তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকতেন। রবিবার সকালে ঘটনার সময় বাড়িতে একাই ছিলেন বলরাম। তাঁর মা পরিচারিকার কাজে বেরিয়েছিলেন। বাবা মাছ বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। দাদাও সে সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগেই বাড়িতে লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ।

দুপুরে কাজ থেকে বাড়ি ফিরে মা দেখেন, ছেলের দেহ ঘরের মধ্যে পড়ে রয়েছে। পুরো ঘর লন্ডভন্ড। আলমারি খোলা। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জামাকাপড়। বিছানার উপর পড়ে রয়েছে গয়নার কয়েকটি খালি বাক্স। সঙ্গে সঙ্গে বাগুইআটি থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। কী ভাবে ওই বাড়িতে দুষ্কৃতীরা ঢুকল, লুটপাটের সঙ্গে বলরামের মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে লুটপাটের সময় বাধা দেওয়ায় যুবককে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। কাজ থেকে ফিরে মৃতের মা দরজা খুলে ভিতরে ঢোকেন। এমনকি বাড়ির পোষ্য কুকুরটিকেও একটি ঘরের মধ্যে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কুকুরের কোনও চিৎকারও প্রতিবেশীদের কানে পৌঁছোয়নি। ফলে পরিচিত কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তকারীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

আলমারিটি বাইরে থেকে ভাঙা হয়েছিল, নাকি চাবি ব্যবহার করে খোলা হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য এবং পুলিশ প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। কী ভাবে বাড়িতে দুষ্কৃতীরা ঢুকল এবং বেরোল, সেই সূত্রই এখন তদন্তকারীরা খুঁজছেন।


Share