Special Intensive Revision

বাংলাদেশি ভোটার চিহ্নিত করায় বিএলও-কে খুনের হুমকি ডানকুনিতে, তদন্ত করবেন মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক

ওই ওয়ার্ডের তৃনমূল কাউন্সিলর শেখ আসরফ হোসেন বিষয়টি মিমাংসার করার চেষ্টা করেন। দু’পক্ষকে ডাকাও হয়। যদিও আক্রান্ত বিএলও সেই ডাকে সাড়া দেননি। তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, “কে বাংলাদেশি তা বিএলও ঠিক করবে না। তবে সেখানে মারামারি হয়েছে বলে শুনিনি। একটা তর্কাতর্কি হয়েছে।”

বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা।
প্রীতম সাধুখাঁ, ডানকুনি
  • শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৪৬

বাংলাদেশি ভোটার চিহ্নিত করায় মহিলা বুথ স্তরের আধিকারিককে (বিএলও) কুপিয়ে মারার হুমকি উঠেছে। এমনকী, ওই মহিলা বিএলও-কে জুতোপেটা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ডানকুনি পুরসভা এলাকায়। অভিযুক্তের নাম আব্দুল রহিম গাজি। ওই ব‍্যক্তির বিরুদ্ধে ডানকুনি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি ডানকুনি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পার ডানকুনি এলাকার। আক্রান্ত বুথ স্তরের আধিকারিকের নাম বিমলি টুডু হাঁসদা। তিনি ৫ নম্বর বুথে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিমলির অভিযোগ, তিনি তাঁর পাশের বুথে আব্দুল রহিম গাজি এক বাংলাদেশি ভোটারকে চিহ্নিত করেছেন। আব্বুল রহিম গাজি ৬ নম্বর বুথের ভোটার। এর পরেই তিনি ওই বুথের বিএলও-কে গোটা বিষয়টি জানান।

অভিযোগ, আব্বুল রহিম গাজি বাংলাদেশে জন্মেছে। অবৈধ ভাবে এখানে এসে প্রথমে বর্ধমানে বসবাস করে। সেখানে কাউকে অভিভাবক সাজিয়ে কাগজপত্র বানিয়ে ডানকুনিতে আসে। এখানে এসে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছে। ২০০২ সালের ম‍্যাপিংয়ে আব্বুল রহিম গাজির নাম নেই বলেও জানা গিয়েছে।

এর পরেই আব্বুল রহিম গাজি বিএলও বিমলি  টুডু হাঁসদার ওপর চড়াও হন। পশু কাটার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের হুমকিও দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন। বিমলি বলেন, “আমায় ও (আব্দুল রহিম গাজি) মারধর করেছে। গালে জুতো দিয়ে মেরেছে। ঘুষি মেরেছে।” স্থানীয়রাই দু’পক্ষের অশান্তি থামান। এর পরে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। এখানেই থামেনি ঘটনা। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে, এই খবর পেয়ে আব্দুলের স্ত্রী বিমলির কাছে যায়। বিমলি বলেন, “ওর স্ত্রী এসে আমাকে হুমকি দেয় আমার ভাইয়েরা কসাই। পশু কাটে। তোমায় ছাড়বে না।” তিনি পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। বলেন, “দু-দু’বার থানায় অভিযোগ জানিয়ে এসেছি। কোনও বারই থানা থেকে অভিযোগপত্র স্টাম্প মেরে আমায় দেয়নি।”

ওই ওয়ার্ডের তৃনমূল কাউন্সিলর শেখ আসরফ হোসেন বিষয়টি মিমাংসার করার চেষ্টা করেন। দু’পক্ষকে ডাকাও হয়। যদিও আক্রান্ত বিএলও সেই ডাকে সারা দেননি। তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, “কে বাংলাদেশি তা বিএলও ঠিক করবে না। তবে সেখানে মারামারি হয়েছে বলে শুনিনি। একটা তর্কাতর্কি হয়েছে।” 

আক্রান্ত বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা জানিয়েছেন, “আমি বিডিও এবং বিএলও সুপারভাইজারকে বিষয়টি জানিয়েছি।” কমিশন সূত্রের খবর, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে খোঁজখবর নিচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক।


Share