Land Scam

জমি দখল করতে থানায় ভুয়ো মামলা করাতেন! আদালতে প্রথম সাপ্লিমেন্টেরি চার্জশিট দিল ইডি

সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জমি দখলের মামলার তদন্তে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের নাম সামনে আসে। একই মামলায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের নামও জড়ায়। বর্তমানে এই তিন অভিযুক্তই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিংহ বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ১১:৩১

জমি দখল ও দুর্নীতির মামলায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জমি দখলের মামলার তদন্তে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের নাম সামনে আসে। একই মামলায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের নামও জড়ায়। বর্তমানে এই তিন অভিযুক্তই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

ইডি সূত্রের দাবি, অভিযুক্তরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলের চক্র চালাতেন। জমির প্রকৃত মালিকদের চাপে রাখতে এবং হয়রানি করতে পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হত। তদন্তে ইডির দাবি, কলকাতার একাধিক এলাকায় এইভাবে জমি দখল করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় এর আগেই একটি চার্জশিট জমা দিয়েছিল ইডি। শুক্রবার সেই মামলায় ১১৪ পাতার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট আদালতে পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে মোট ২৬ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই জমি দখল মামলাতেই গ্রেফতার হন সোনা পাপ্পু। ইডি সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে। এর আগে একই মামলায় জয়কে অভিযুক্ত করে চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি। সেই চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জোরপূর্বক জমি দখলের মাধ্যমে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শান্তনুর বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইডির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, সোনা, জয় ও শান্তনু পরস্পরের যোগসাজশে জমি দখলের চক্র চালাতেন। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জমি দখল এবং জমির মালিকদের হয়রান করতে পুলিশ-প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটানো হত। ইডির দাবি, শান্তনুর মাধ্যমেই জয় পুলিশমহলে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করা হত। তদন্তে জয় ও শান্তনুর মধ্যে হওয়া একাধিক চ্যাট উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, সেই চ্যাট থেকেই এই অভিযোগগুলির সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।

এ দিকে, শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর মোবাইল ফোনের হদিস পায়নি ইডি। এই মামলায় তাঁর দুই ছেলেকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। পরে প্রায় ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর গত ১৪ মে শান্তনুকে গ্রেফতার করে ইডি।

চলতি বছরের শুরুতে কাঁকুলিয়ার অশান্তির ঘটনার পর থেকেই ব্যবসায়ী ‘সোনা পাপ্পু’-র নাম সামনে আসে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি ও সম্পত্তি দখল করতেন তিনি। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালায়।

তল্লাশির পরের দিনই সোনা পাপ্পু-সংক্রান্ত মামলায় শান্তনু এবং তাঁর দুই ছেলে সায়ন্তন ও মণীশকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেয় ইডি। তবে সেদিন তাঁদের কাউকেই ইডি দফতরে যেতে দেখা যায়নি। এর আগেও এপ্রিলে বালি পাচার মামলার তদন্তে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুকে তলব করেছিল ইডি, কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়। একাধিকবার তলব এড়ানোর পর অবশেষে ইডি দফতরে হাজির হন শান্তনু। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


Share