Baruipur Incident

কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায় প্রভাস, বাঁচতে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, এনকাউন্টারে নিহতকেই ‘মূলচক্রী’ হিসেবে দাবি পুলিশের

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে, নির্যাতিতার বাবা বলেন, "ফোনে দাদা বলেছিলেন, তুমি শুধু দেখো। তার পর তোমার বাড়িতে আমি যাব।" প্রভাসের দেহ নিতে রাজি নন প্রভাসের মা। প্রভাসের স্ত্রীর দাবি, গোড়া থেকেই প্রভাসের অপরাধপ্রবণ মানসিকতা রয়েছে। তাঁর ওপরেও প্রচুর অত্যাচার করেছে বলেও জানায় সে।

এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ১০:৫০

বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ এবং খুনের মামলার ‘মূলচক্রী’ প্রভাস মন্ডল। মঙ্গলবার রাতে এনকাউন্টার করে পুলিশ প্রভাসকে নিকেশ করেছে। পুলিশের দাবি, নিহত প্রভাসই ঘটনায় পরিকল্পনা করেছে। কিশোরীকে প্রভাসই আটকে রেখেছিল। ধর্ষণ এবং খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ বস্তায় ভরে জলে ফেলে দেয়। বারবার বয়ান বদল করে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেছিল। তাই অভিযুক্ত প্রভাসকে অপরাধস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ১২ বছরের কিশোরীকে যে ভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, সেই ঘটনার ‘মূলচক্রী’ প্রভাস মন্ডল। প্রভাসই গোটা ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রভাস মন্ডলই কিশোরীকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। রবিবার সকালে সূর্যপুরের একটি পানা পুকুর থেকে দেহ উদ্ধারের হয়। স্থানীয়েরাই প্রভাসকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গ্রেফতার করার পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে, এক এক সময়, এক এক রকম বিভ্রান্তিকর দাবি করতে থাকে। কখনও সে দাবি করে ‘আমি জানি না’ বলে। আবার কখনও বলে চারজন মিলে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, প্রভাস যদি কিছুই না জেনে থাকে তাহলে দেহ কোথায় রয়েছে, তা কী ভাবে সে জানতে পারল। বিভ্রান্ত হচ্ছেন দেখে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা।

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার রাতে প্রভাসই নাবালিকাকে অপরাধস্থলে নিয়ে আসে। প্রভাসই নাবালিকাকে আটকে রেখে আটকে রাখে। পরবর্তীতে গণধর্ষণ করার পরে খুন করার চেষ্টা করে। এমনকী, প্রভাসই নাবালিকার দেহ পুকুরে ফেলেছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে, বস্তাবন্দি করে পুকুরে দেহটিকে ফেলা হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে। কিশোরীর ফুসফুসে যথেষ্ট পরিমাণে কাদা জল পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কখনও নিজেকে প্রভাস শুধু দর্শক বলে দাবি করে। পরে আবার জানায়, অন্য কেউ একজন মেয়েটিকে নিয়ে সেখানে আসতে বলেছিল। এর পর আরও কয়েক জনের নামও নিয়েছে সে। নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে। প্রভাস বাদ দিয়ে বাকি অভিযুক্তদেরও মুখোমুখি বসিয়ে তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাতে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, ইচ্ছাকৃত ভাবে তদন্তকে প্রভাবিত করতে বারবার বিভ্রান্তিকর তথ‍্য পরিবেশন করছিল প্রভাস। সে-ই ঘটনার মূলচক্রী। বাকি ধৃত তিনজন— দিবাকর, আনন্দ এবং কবিরকে সঙ্গে নিয়ে প্রভাসই গোটা অপরাধটিকে সংগঠিত করেছে।

পুলিশের দাবি, বার বার বিভ্রান্তিকর বয়ান দিচ্ছিল অভিযুক্ত প্রভাস। শনিবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল তা নিয়ে স্পষ্ট হতেই প্রভাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে যাওয়া হয়। আইন মেনে তদন্তকারী দলের সদস্যেরা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন‍্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সময়টা তখন ১২টা ৪৫। চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর রানি সরকারের সার্ভিস রিভলভার ছিনতাই করে পুকুরে ধার দিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। 

এর পরেই প্রভাসকে পিছু ধাওয়া করতে থাকা বাকি পুলিশকর্মীরা। প্রভাসকে অবিলম্বে অস্ত্র ফেলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করতেও বলা হয়। পুলিশের হুঁশিয়ারি না শুনে আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে এক রাউন্ড গুলি চালায়। বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে যান তাঁরা। এর পরেই নিজের এবং সতীর্থদের প্রাণ বাঁচাতে পাল্টা গুলি চালান আরেক সাব-ইন্সপেক্টর অর্ঘ‍্য মন্ডল। ‘নিখুঁত’ নিশানায় দু’টি গুলি লাগে প্রভাসের। একটি বুকের বাঁ দিকে অপর গুলি গিয়ে লাগে কোমরের ওপরে।

রক্তাক্ত অবস্থায় প্রভাস মন্ডলকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রভাসের মৃত্যুতে নিহত নির্যাতিতার বাবা বলেন, "আমি খুশি। দাদার (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী) কাছে কাল গিয়েছিলাম। দাদা ভরসা রাখতে বলেন। দাদার ওপর পূর্ণ ভরসা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে ভরসা করি। এটুকুই বলব।" 

গতকাল রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, "ফোনে দাদা বলেছিলেন, তুমি শুধু দেখো। তার পর তোমার বাড়িতে আমি যাব।" প্রভাসের দেহ নিতে রাজি নন প্রভাসের মা। প্রভাসের স্ত্রীর দাবি, গোড়া থেকেই প্রভাসের অপরাধপ্রবণ মানসিকতা রয়েছে। তাঁর ওপরেও প্রচুর অত্যাচার করেছে বলেও জানায় সে।


Share