Baruipur Incident

অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সাব-ইন্সপেক্টর রানির রিভলভার ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা, সতীর্থের ‘নিখুঁত’ নিশানায় নিকেশ প্রভাস, কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে

কিছুটা যাওয়ার পরেই ছিনতাই করা পিস্তলের লক খুলে পিছনে ধাওয়া করা পুলিশ আধিকারিকদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। তখনই নিজের এবং সতীর্থদের প্রাণ বাঁচাতে নিজে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে গুলি চালান বারুইপুরের গুন্ডা দমন শাখার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ‍্য মন্ডল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৫:৪৬

রাত তখন ১২টা ৪৫। চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। জনমানবশূন্য এলাকা। জলাভূমি ছাড়া কিছুই নেই। তখনই বারুইপুর কান্ডের অন‍্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলকে অপরাধস্থলে নিয়ে আসা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা।

জানা গিয়েছে, প্রভাসকে প্রথমে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন‍্য তদন্তকারী আধিকারিকেরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযুক্ত প্রভাসের কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন ক‍্যানিং থানার পুলিশ সার্কেলে (পিসি) ইনচার্জ রানি সরকার। আচমকাই ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিকের কোমরে থাকা পিস্তল নিয়ে প্রভাস পুকুর ধার দিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। মূহুর্তের পিছু ধাওয়া করে পুলিশের বাকি আধিকারিকরা। কিছুটা যাওয়ার পরেই ছিনতাই করা পিস্তলের লক খুলে পিছনে ধাওয়া করা পুলিশ আধিকারিকদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। তখনই নিজের এবং সতীর্থদের প্রাণ বাঁচাতে নিজে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে গুলি চালান বারুইপুরের গুন্ডা দমন শাখার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ‍্য মন্ডল।

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত প্রভাসের দেহে দু’টি গুলি লেগেছে। একেবারে নিখুঁত নিশানা। একটি গুলি বুকের বাঁ দিকে লাগে। অপর গুলিটি কোমরের ওপরে গিয়ে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ধর্ষণ ও খুনের আসামী প্রভাস মন্ডল। সেই মূহুর্তের প্রভাসকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। পরবর্তীতে প্রভাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভবানী ভবন সূত্রের খবর, রানি এবং অর্ঘ‍্য— দুই পুলিশ আধিকারিকে বারুইপুরে সুপারের অফিসে তলব করা হয়েছে। বারুইপুরের জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্ঘ‍্য মন্ডল বারুইপুরের গুন্ডা দমন শাখায় ইনচার্জ পদে রয়েছেন। এক সময় বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি একসময় বারুইপুরের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের ইনচার্জ ছিলেন। অর্ঘ‍্য ২০১৪ সালে রাজ‍্য পুলিশে যোগ দেন। অতীতে তিনি জয়নগর, কুলতলি এবং সোনারপুরের মতো স্পর্শকাতর থানায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।

অন‍্য দিকে, সাব ইন্সপেক্টর রানি সরকার বর্তমানে ক্যানিং থানার পিসি ইনচার্জ। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বকুলতলা থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর ও বকুলতলা-সহ বেশ কয়েকটি থানায় কাজ করেছেন। কনস্টেবল হিসেবে চাকরি শুরু। পরবর্তীকালে সাব-ইনস্পেক্টর পদে উন্নীত হন।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে সূর্যপুরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরের দিন, রবিবার তাঁকে ওই এলাকায় একটি পানা পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণ এবং খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় প্রভাস মন্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দারকে এবং কবির মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, বারবার প্রভাস মন্ডল তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করছিল। বয়ান বদল করছিল। এই প্রভাসই বুধবার সকালে এনকাউন্টারে নিকেশ হয়েছে।

প্রভাসের বাড়ি সূর্যপুর এলাকাতেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবারে মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রভাসের বাবা অসুস্থ। মা গৃহবধূ। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। তবে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রভাসের নাম জড়ানোর পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান প্রভাসের স্ত্রী। বাড়িতে প্রভাসের মা এবং বাবা রয়েছেন। সূত্রের খবর, কোনও স্থায়ী কাজ করতেন না প্রভাস। যখন যা পেতেন তা-ই করতেন। কখনও ভ্যান চালাতেন। তবে নেশাও করতেন তিনি। প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, “আমাদের কথা শুনত না। নেশা করত।” স্ত্রী-ও জানান, স্বামীর চরিত্র ভাল ছিল না। তাঁর কথায়, “ও দোষ করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।”


Share