A Man Allegedly Been Set On Fire By TMC Workers

দক্ষিণ দমদমে যুবককের গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা! স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রঞ্জিতের ছেলে সঞ্জীব কর্মকার বলেন, এটা রসিকতা নয়। মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। পিছন থেকে একজন গায়ে পেট্রোলটা দিয়ে দিয়েছে। আরেক জন বিড়ি ধরাচ্ছিল। সেই সময় আচমকা দেশলাইটা জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ দমদমে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দমদম
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৮

দক্ষিণ দমদম পুরসভার তারকনাথ কলোনিতে যুবকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে জ‍্যন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুশান্ত দাসদের দলবল এই কান্ড ঘটিয়ে। তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবি, বন্ধুরা ইয়ার্কি-ঠাট্টা করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

জখম যুবকের নাম রঞ্জিত কর্মকার। রঞ্জিত তারকনাথ কলোনির বাসিন্দা। তাঁর শ্বশুরবাড়িও ওই এলাকাতেই। বৃহস্পতিবার ভোরে কালী প্রতিমা নিরঞ্জন করে রঞ্জিত বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার পরিবারের দাবি, সেই সময় পাশের পাড়ার প্রতিমা নিরঞ্জন সেরে স্কুটারে করে আসেন সুমন, সুশান্ত এবং সাগর। তিন জনই সেই সময় মত্ত ছিলেন। তারা রঞ্জিতকে দেখতে পেয়ে স্কুটি দাঁড় করায়। এর পরেই তাদের মধ্যে একজন গাড়ি থেকে তেল বের করে রঞ্জিতের গায়ে ছিটিয়ে দেয়। অপর একজন আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। 

ওই যুবককে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী আরজি কর মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, রঞ্জিতের শারীরের ৩০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে যায় নাগেরবাজার থানার পুলিশ। 

যে তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হল- সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাগান, সুশান্ত দাস এবং সাগর। স্থানীয় সূত্রের খবর, এরা সবাই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মৃন্ময় দাসের ঘনিষ্ঠ। এলাকায় যথেষ্ট দাপটও রয়েছে তিন জনের। মৃন্ময় দাসের কথায়, ওই পাড়ার প্রত্যেকেই তাঁর অনুগামী। তাঁর দাবি, বন্ধুদের মধ্যে রসিকতার করার ছলে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃন্ময় বলেন, “ভোর সাড়ে চারটের সময় কী হতে পারে!  ইয়ং ছেলেরা কালীপুজো করেছে। সেই সময় ইয়ার্কি (রসিকতা) মারতে গিয়ে এই ঘটনাটা ঘটেছে।” কাউন্সিলর এ-ও জানান, “প্রশাসনের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। যদি পুলিশ দেখে যে, ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে, তাহলে পুলিশ পদক্ষেপ নিক। তারা সঠিকভাবে তদন্ত করবে।”

রঞ্জিতের ছেলে সঞ্জীব কর্মকার বলেন, এটা রসিকতা নয়। মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। পিছন থেকে একজন গায়ে পেট্রোলটা দিয়ে দিয়েছে। আরেক জন বিড়ি ধরাচ্ছিল। সেই সময় আচমকা দেশলাইটা জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

রঞ্জিতের শাশুড়ি মনা দাস বলেন, ‘‘রাতে ঠাকুর নিরঞ্জন করতে গিয়েছিল সবাই। আমি ঘরে ছিলাম। ভোরবেলা শুনি কয়েক জন অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করছে। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি জামাই কাঁদছে। ওঁর পিঠ পুড়ে গিয়েছে। পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে।’’ ওই কলোনির এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আমি শুনলাম, বাগান বলে একটি ছেলে বান্ধবীর স্বামীকে পুড়িয়ে দিয়েছে। যারা করল, তাদের মধ্যে এক জন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাগান বদমাশ। ও কাউন্সিলরের ডানহাত। সবাইকে হুমকি দেন।’’ তার পরেই কাউন্সিলর মৃন্ময় বলেন, ‘‘ওরা দলকে বদনাম করছে। আমাদের নেত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এ সব প্রশ্রয় দেন না।’’


Share