Special Intensive Revision

এসআইআর-এর কাজের চাপ, নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী মহিলা বিএলও

মৃতার নাম, রিঙ্কু তরফদার (৫৪)। জানা গিয়েছে, রিঙ্কু নদিয়ার চাপড়ার বাঙ্গালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্বশিক্ষক। চাপড়া- ২ পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। আদতে তিনি কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় থাকতেন। গতকাল রাতে নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।

মৃতার নাম রিঙ্কু তরফদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৬

ফের এসআইআর-এর চাপে আত্মঘাতী মহিলা বিএলও। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। প্রৌঢ়ার চাপড়ার একটি বুথের বিএলও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে তিনি কিছু লিখে গিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।

মৃতার নাম, রিঙ্কু তরফদার (৫৪)। জানা গিয়েছে, রিঙ্কু নদিয়ার চাপড়ার বাঙ্গালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্বশিক্ষক। চাপড়া- ২ পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। আদতে তিনি কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় থাকতেন। গতকাল রাতে নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তাতে লেখা আছে, “আমার এই পরিনতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। আমি কোনও রাজনৈতিক দল করি না। খুবই সাধারণ মানুষ।” এর পাশাপাশি তিনি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) এবং বিএলও সুপারভাইজারকে তাঁর অসুবিধার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা কোনও ব‍্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ করেছেন রিঙ্কুদেবী।

তিনি এ-ও লিখেছেন, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।” পরিবারের দাবি, কয়েক দিন ধরেই প্রৌঢ়া মানসিক চাপে ভুগছিলেন। কাজের চাপে রাতে ঠিক করে ঘুমাতে পারছিলেন না।

পরিবারের সদস্যদের কথায়, রিঙ্কুদেবী পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন। ফলে তিনি কম্পিউটার চালাতে খুব একটা বেশি দক্ষ ছিলেন না। এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ করতে যদি ভুল হয়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হুঁশিয়ারিতে তিনি যথেষ্ট আতঙ্কিত ছিলেন। এর ওপরে প্রশাসনের কাজের চাপ-সব মিলিয়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

কিছু দিন আগে হুগলির কোন্নগরে এসআইআর-এর ফর্ম নিতে গিয়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন এক বুথ স্তর আধিকারিক (বিএলও)। জানা যায়, তাঁর সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে। তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কলকাতা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। গতকাল তাঁকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অতীতে এসআইআর নিয়ে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী পরে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ২০০২ সালে তিন বছর সময় লেগেছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত বিপদজনক। তিনি অবিলম্বে এই এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করতে অনুরোধ করেছিলেন।


Share