Indian Political Action Committee

টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ আইপ‍্যাকের কর্মীদের বিরুদ্ধে! 'তৃণমূল বাঁচাও ব্যানার' নিয়ে শোরগোল নদিয়ায়

জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা প্রণয় ঘোষচৌধুরী বলেন, “রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তা আমরা জানি না। দলের বদনাম রটাতেই এই কাজ করা হয়েছে। যে বা যারা এই কাজ করেছেন তদন্ত করে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি।”

তেহট্টে এই পোস্টারটি লাগানো হয়েছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, তেহট্ট
  • শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:০৬

টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ‍্যাকের কর্মীদের বিরুদ্ধে। নদিয়ার তেহট্টে ওই দু’জন আইপ‍্যাক কর্মীর নাম নিশ্চয় শর্মা এবং রঞ্জিত। তাদের বিরুদ্ধেই বুধবার 'নদিয়া জেলা তৃণমূল বাঁচাও’ পোস্টার পড়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পোস্টারগুলি সরিয়ে দেয়।

তেহট্ট-২ ব্লকের বার্নিয়ায় 'নদিয়া জেলা তৃণমূল বাঁচাও' লেখা পোস্টারে আইপ্যাকের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টারে লেখা হয়েছে, কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় দলীয় নির্দেশ অমান্য করেছে। নিশ্চয় শর্মা এবং রঞ্জিত দলীয় পদ বা বিধানসভার টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলাবাজি করেছে। এর পাশাপাশি জেলায় যত ব‍্যবসায়ী এবং ‘অসৎ’ লোক রয়েছে তাদের আয়ত্তে এনে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায় টাকা নিচ্ছে। আইপ‍্যাককর্মী নিশ্চয় শর্মা পলাশিপাড়ার এক ব‍্যবসায়ীরকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করবে বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। এমন করে নিশ্চয় এবং রঞ্জিত সারা জেলাজুড়ে সাম্রাজ‍্য তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন করছে বলেও অভিযোগ করেছে।

শুধু তাই নয়, এই দু’জনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের গোপন তথ্য বিজেপিকে পাচার করারও অভিযোগ উঠেছে। তার বিনিময়ে টাকা নিচ্ছেন তারা। এই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এমন, যে ওই জেলার এক বিজেপি ফেরত তৃণমূল নেতাকে প্রার্থী করবে বলে, তাঁর থেকে দামী দামী উপহার নিয়েছে। এমনকি ওই নেতাকে আমোদপ্রমোদের জন্য মহিলা সরবারহ করেছে আইপ‍্যাক কর্মী নিশ্চয় শর্মা।

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, দলের নির্দেশে এসআইআরের ফর্ম ফিলাপে সহযোগিতা করার জন্য ওই শিবিরটি তৈরি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার শিবিরের কাজকর্ম করে শিবির বন্ধ করে দলীয় কর্মীরা চলে যান। বুধবার সকালে শিবির খুলতে এসে ওই ব্যানারটি তাঁরা লক্ষ্য করেন। ব্যাপারটি দেখতে কার্যালয় সামনে তৎক্ষণাৎ বিরাট ভিড় এসে উপস্থিত হয়।

তৃণমূলের এসআইআর শিবিরে ওই ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ অবশ্য পোস্টারগুলিকে খুলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

তবে কে এই ব্যানার লাগালো, সেই বিষয়ে বার্নিয়ার তৃণমূল নেতৃত্ব কিছু বলতে পারেননি। তবে এই ব্যানার দেখে অসন্তোষ জানান অনেকেই। ব্যানারে নাম থাকা আইপ্যাকের এক কর্মীকে ফোন করা হলে তিনি কিছু মন্তব্য করতে চাননি। অন্যজনকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরা থেকে বিরত থাকেন।


Share