Accident

মধ্যমগ্রামে বহুতলের রং করার দুর্ঘটনা, দড়ি ছিঁড়ে পড়ে রাস্তায় পড়লেন তিনজন শ্রমিক, হাসপাতালে নিয়ে গেলে দু’জনের মৃত্যু

শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর শনিবার দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যমগ্রাম
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০৬:১২

মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগরে নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা। রং করার সময় দড়ি ছিঁড়ে নিচে পড়ে মৃত্যু হল দুই শ্রমিকের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক শ্রমিক। তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গানগরে একটি বড় বহুতল নির্মাণের কাজ চলছে। শুক্রবার দুপুরে সেখানে রং করার জন্য তিন জন শ্রমিক দড়ির সাহায্যে উপরে উঠেছিলেন। কাজ চলাকালীন আচমকাই তাঁদের ব্যবহৃত ‘ক্যাটেল’-এর তার ছিঁড়ে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে তিন জনই নীচে পড়ে গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তৃতীয় শ্রমিকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনা অবশ্য ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে প্রথম নয়। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একইভাবে কাজ করতে গিয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে ফের দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। কাজের সময় যে দড়ি বা ‘ক্যাটেল’ ব্যবহার করা হয়, সেগুলি নিরাপদ কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করতে হচ্ছে। এই ঘটনায় নির্মাণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে।

নির্মীয়মাণ বহুতলের এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, ঘটনার সময় তাঁরা অন্যদিকে ছিলেন। আচমকা একটি জোরালো শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন শ্রমিককে নীচে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সবাই অন্যদিকে ছিলাম। হঠাৎ বিশাল একটা শব্দ শুনতে পাই। বিল্ডিংয়ের ওই দিকে গিয়ে দেখি, তিনজন দড়ি ছিঁড়ে পড়ে গিয়েছে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরেকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে জানান। তৃতীয়জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কীভাবে কী কাজ হত, সেগুলো আমরা কিছু জানি না।’’

ঘটনার পর নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজেপি নেতা শুভজিৎ কুণ্ডু সরব হয়েছেন। মধ্যমগ্রামের বিজেপির মণ্ডল দুই সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, গত বছরও ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজ করতে গিয়ে ২৬ বছরের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ও তিনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন বলে তাঁর দাবি।

শুভজিৎ কুণ্ডুর কথায়, ‘‘গত বছরও এখানে এভাবে ২৬ বছরের এক ছেলে মারা গিয়েছিল। তখন আমি কর্তৃপক্ষকে সেফটি নিয়ে বলেছিলাম। এভাবে তো চলতে পারে না। এত বড় প্রজেক্ট চলছে, অথচ যারা কাজ করছেন তাঁদেরই নিরাপত্তা নেই। শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতেই হবে।’’

একই জায়গায় ফের দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষ করে আগেও একই ধরনের দুর্ঘটনার অভিযোগ ওঠার পরেও কেন প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন শ্রমিক ও স্থানীয়দের।


Share